হামে ২৪ ঘণ্টায় ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৮৯৪
ফাইল ছবি
দেশে হাম পরিস্থিতির ভয়াবহতা এখনো কাটেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৫৯ শিশুর মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ১৮৭ শিশুর শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে, আর ৯৭২ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
নতুন চার মৃত্যুর সব কটিই সন্দেহজনক হাম হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯৪ জনে। এর মধ্যে সন্দেহজনক হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৭৯৫ জনের এবং পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছে ৯৯ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৮। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই নতুন করে ৯৭২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। একই সময়ে ১৮৭ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হওয়ায় এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৭৩০।
আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০২৫
অর্থাৎ চলমান প্রাদুর্ভাবের প্রায় পাঁচ মাসে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত দুই ধরনের রোগী মিলিয়ে শনাক্তকরণের চাপ এখনো অত্যন্ত বেশি। আগের দিনের হিসাবে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৬; পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৯৭২ জন যুক্ত হয়ে তা ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৮-এ পৌঁছেছে। একই সময়ে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৫৪৩ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭ হাজার ৭৩০।
রোগীর চাপের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া শিশুর সংখ্যাও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৭৯৪ রোগী। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ জন। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালমুখী হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর হামজনিত রোগের বাড়তি চাপ রয়েছে। একই সঙ্গে ৪ হাজারের বেশি রোগীকে ঘিরে ভর্তি, চিকিৎসা ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে যা প্রাদুর্ভাবের স্বাস্থ্যব্যবস্থাগত প্রভাবও স্পষ্ট করছে।
চলমান পরিস্থিতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নিশ্চিত হাম এবং সন্দেহজনক হামের পরিসংখ্যান আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, পরীক্ষায় ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত না হলেও হামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপসর্গ থাকা রোগীদের সন্দেহজনক হিসেবে গণনা করা হয়। ফলে মোট ৮৯৪ মৃত্যুর মধ্যে ৭৯৫ জনের মৃত্যু সন্দেহজনক হাম হিসেবে এবং ৯৯ জনের মৃত্যু পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের কারও ক্ষেত্রেই পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়নি। এ কারণে সামগ্রিক মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশের সময় নিশ্চিত ও সন্দেহজনক দুই শ্রেণির হিসাব একসঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








