পেশাদার না হলে দলে জায়গা নেই নেইমারের: লুলা
ছবি: সংগৃহীত
ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ‘পোস্টার বয়’ নেইমার জুনিয়রের জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার সরাসরি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে নেইমারকে রাখা হবে কি না এমন প্রশ্নে কোনো প্রকার আবেগ নয়, বরং কড়া পেশাদারিত্ব ও ফিটনেসের শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি।
স্পোর্টস মিডিয়া ‘দ্য টাচলাইন’ এবং ‘ব্রাজিল ২৪৭’ ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট লুলা জানিয়েছেন, কেবল নামের ভারে নয়, বরং সামর্থ্য ও শৃঙ্খলার প্রমাণ দিয়েই নেইমারকে সেলেসাওদের স্কোয়াডে ফিরতে হবে।
সম্প্রতি ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের একটি অনুষ্ঠানে ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতা হয় প্রেসিডেন্ট লুলার। সেখানে আনচেলত্তি স্বয়ং নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে লুলার ব্যক্তিগত মতামত জানতে চান।
জবাবে প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত বাস্তবসম্মত অবস্থান নিয়ে বলেন, আমি আনচেলত্তিকে বলেছি, নেইমার শারীরিকভাবে ফিট থাকলে ফুটবলীয় সামর্থ্য তার অবশ্যই আছে। তবে প্রশ্ন হলো, সে নিজে কি ফিরতে চায়? যদি চায়, তবে তাকে জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে এবং শতভাগ পেশাদার আচরণ করতে হবে।
লুলা স্পষ্ট করে দেন যে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দলে জায়গা পেতে হলে অতীত কীর্তি নয়, বরং বর্তমান ফর্ম এবং দলের প্রতি দায়বদ্ধতাই হবে প্রধান মাপকাঠি।
নেইমারকে সঠিক পথে ফেরার তাগিদ দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট লুলা আধুনিক ফুটবলের দুই কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর উদাহরণ টেনেছেন।
তিনি মনে করেন, ক্যারিয়ারের এই সন্ধিক্ষণে নেইমারের উচিত তাদের শৃঙ্খলা ও পরিশ্রম থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া।
আরও পড়ুন: ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছর পর লিডসের ঐতিহাসিক জয়
লুলা বলেন, সে এখনো তরুণ এবং জাতীয় দলের দরজা তার জন্য বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে সে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বা মেসিকে অনুসরণ করতে পারে। তারা যেভাবে নিজেদের শৃঙ্খলা ও ফর্ম ধরে রেখেছে, নেইমারকেও সেভাবে নিজেকে তৈরি করে ফিরতে হবে।
লুলার মতে, মাঠের বাইরের অনিয়মিত জীবনযাপন এবং দীর্ঘস্থায়ী চোট নেইমারের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চোট ও ফিটনেস সমস্যার কারণে গত প্রায় তিন বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকা নেইমার বর্তমানে ক্লাব ফুটবলে নিজেকে প্রমাণের চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি সান্তোসের হয়ে কোপা সুদামেরিকানায় প্যারাগুয়ের ক্লাব রেকোলেতার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। ম্যাচের ৪ মিনিটেই গোল করে ফেরার বার্তা দিলেও ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। তবে ম্যাচ শেষে ভিলা বেলমিরোর ভিআইপি গ্যালারিতে এক অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় তাকে। সেখানে সমর্থকরা নেইমারের নিবেদন ও সান্তোসের প্রতি তার সম্মানবোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
জবাবে নিজের জার্সিতে সান্তোসের লোগো দেখিয়ে নেইমার বলেন, আমি শ্রদ্ধা করি, অন্তর থেকেই শ্রদ্ধা করি। আমি কি নষ্ট হয়ে গেছি? আমি তো এখানে নিজের সবটুকু নিংড়ে দিচ্ছি। পরবর্তীতে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের কাছে তিনি সমর্থকদের এমন ব্যক্তিগত আক্রমণে নিজের কষ্টের কথা প্রকাশ করেন।
নেইমারকে নিয়ে যখন দেশজুড়ে তুমুল উত্তেজনা, তখন সবার নজর এখন কোচ কার্লো আনচেলত্তির দিকে। আগামী ১৮ মে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন তিনি। হাতে থাকা এই স্বল্প সময়ে আনচেলত্তির আস্থার প্রতিদান দিতে হলে নেইমারকে কেবল গোল করলেই হবে না, বরং শারীরিক সক্ষমতা এবং দেশের হয়ে খেলার সর্বোচ্চ নিবেদন প্রমাণ করতে হবে। বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের এখন একটাই প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত কি ‘মেসি-রোনালদো’ ফর্মুলা মেনে হেক্সা জয়ের মিশনে ফিরতে পারবেন নেইমার? উত্তর মিলবে মে মাসেই।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








