ঢাকার মাঠে কি আসছে ব্রাজিল? সম্ভাব্য মেগা ম্যাচ নিয়ে বাফুফে ব্যস্ত সমীকরণে
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক অভূতপূর্ব ও রোমাঞ্চকর সম্ভাবনার দোয়ার উন্মোচন হতে চলেছে। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ও পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের ঢাকায় এসে প্রীতি ম্যাচ খেলার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৫ অথবা ৬ অক্টোবর ঢাকার মাঠে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হতে পারে সেলেসাওরা। বিশ্ব ফুটবলের এই মেগাস্টারদের বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে অভূতপূর্ব উন্মাদনা।
গত রবিবার (২৩ আগস্ট) আকস্মিকভাবেই ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসে। প্রতিনিধি দলটি রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম এবং বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিদর্শন করে। মাঠের রানিং ট্র্যাক, খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুম, গ্যালারির অবকাঠামো ও মিডিয়া বক্স ঘুরে দেখার পর তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। স্টেডিয়াম পরিদর্শনের ওই দিন রাতেই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের ফিফা উইন্ডোতে অস্ট্রেলিয়ায় দুটি ম্যাচ খেলার পর এশিয়া সফরে আসছে ব্রাজিল। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে কলকাতার ঐতিহাসিক সল্টলেক স্টেডিয়ামে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে তাদের। তবে ভারতীয় গণমাধ্যমের একাংশে সল্টলেক স্টেডিয়ামের মাঠের পজিশন ও আনুষাঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ব্রাজিল দলের কিছুটা অসন্তুষ্টির গুঞ্জন শোনা গেলেও, মূলত দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে নিজেদের বাণিজ্যিক পরিধি ও বিশাল সমর্থকগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করতেই ঢাকা সফরের এই বাড়তি পরিকল্পনা সাজিয়েছে সিবিএফ। বাংলাদেশে ব্রাজিল ভক্তদের উন্মাদনা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত, যা ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কর্র্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের নজর কেড়েছে।
আরও পড়ুন: শিরোপা ধরে রাখার মিশনে বার্সেলোনার দুর্দান্ত শুরু
তবে এই হাই-প্রোফাইল ম্যাচ আয়োজনের পথে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সূচি ও জটিল শর্ত বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিফা উইন্ডোর নিয়ম অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের এই আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে যেকোনো দল সর্বোচ্চ চারটি ম্যাচ খেলতে পারে। বাংলাদেশ দল বর্তমানে সেপ্টেম্বরে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ফিফা আসিয়ান কাপে অংশগ্রহণের দোরগোড়ায় রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই টুর্নামেন্টে ভারতের পরিবর্তে আমন্ত্রণ পেয়ে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। আসিয়ান কাপের গ্রুপ পর্ব এবং স্থান নির্ধারণী ম্যাচগুলো খেলে দলের ঢাকায় ফিরতে ৩ অক্টোবর রাত কিংবা ৪ অক্টোবর গড়ায়। তাছাড়াও, আসিয়ান কাপেই বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ কোটা পূরণ হয়ে গেলে ফিফার স্বীকৃতি সাপেক্ষে ৬ অক্টোবর ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটি আয়োজন করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বাফুফেকে এখন আসিয়ান কাপের সূচি এবং ব্রাজিলের প্রস্তাব দুটি বিষয় নিয়েই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং খরচ নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ব্রাজিল দলকে ঢাকায় আনতে হলে বাফুফেকে বেশ বড় অঙ্কের আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কলকাতা থেকে ব্রাজিল দলের প্রায় ৯০ সদস্যের বিশাল বহরকে চার্টার্ড ফ্লাইটে ঢাকায় আনা এবং ম্যাচ শেষে দুবাই পর্যন্ত যাত্রার বিমান টিকিটের ব্যয়ভার বহন করতে হবে আয়োজকপক্ষকে। পাশাপাশি বাংলাদেশে তাদের পাঁচ দিনের থাকা-খাওয়া, স্থানীয় যাতায়াত ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক আতিথেয়তার খরচও বাফুফেকে বহন করতে হবে। যদিও সরাসরি ব্রাজিল থেকে দলটিকে উড়িয়ে আনার চেয়ে কলকাতা থেকে নিয়ে আসার খরচ তুলনামূলক কম, তবুও বাফুফের জন্য এটি বেশ ব্যয়বহুল একটি মেগা ইভেন্ট। এছাড়া ব্রাজিল দলকে কোনো ম্যাচ ফি পরিশোধ করতে হবে কিনা, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের মাটিতে ব্রাজিলকে স্বাগত জানানোর বিষয়টি এখন নির্ভর করছে বাফুফের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, আন্তর্জাতিক ফুটবল সূচির সুচারু সমন্বয় এবং ফিফার নিয়মনীতির ওপর। যদি সকল বাধা পেরিয়ে এই ঐতিহাসিক আয়োজন বাস্তবায়িত হয়, তবে তা হবে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং স্মরণীয় এক অধ্যায়। এখন গোটা দেশের ফুটবলপ্রেমীদের চোখ বাফুফের পরবর্তী দাপ্তরিক বার্তার দিকে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








