নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৫৪, ৩১ জুলাই ২০২৬

‘সম্প্রীতির বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও মৌলবাদের কোনো স্থান নেই’

‘সম্প্রীতির বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও মৌলবাদের কোনো স্থান নেই’

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও মৌলবাদের কোনো স্থান নেই বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তিনি বলেছেন, ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভেদ সৃষ্টি করে কেউ যাতে সমাজে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ধর্মীয় পরিচয় ছাপিয়ে প্রতিটি মানুষের নাগরিক পরিচয়কেই রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানী ঢাকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মিলিত সনাতন পরিষদ এই সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বক্তব্যে সুদীর্ঘকালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, গত হাজার বছর ধরে এই ভূখণ্ডে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ সুষম সম্প্রীতি ও ভাইব্রাদারহুডের সঙ্গে বসবাস করে আসছে। তাই সুনির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক বা স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করার কোনো সুযোগ এই মাটিতে নেই। 

সনাতন সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আমি কখনোই আপনাদের সংখ্যালঘু মনে করি না; আপনারা এ দেশের সন্তান, এ দেশের রক্তমাংসে গড়া সমান অধিকারের গর্বিত নাগরিক। নিজের অধিকার ও মর্যাদা আদায়ের জন্য আপনাদের আরও সুসংগঠিত ও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও সবসময় দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সমান অধিকারসম্পন্ন সন্তান হিসেবে মূল্যায়ন করতেন। বিগত দিনে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে সনাতন ধর্মাবলম্বী, মতুয়া সম্প্রদায়, সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে ৩১ দফার রেইনবো নেশন বা রামধনু রাষ্ট্র গড়ার যে রাজনৈতিক রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তা সব মত ও পথের মানুষকে আস্থায় নেওয়ারই বহিঃপ্রকাশ।

আরও পড়ুন: ইনসাফের কথা বললেও অপকর্মের শেষ নেই, জনগণ তাদের বিশ্বাস করে না

বর্তমান জাতীয় প্রেক্ষাপট ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার কথা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি ভূখণ্ডের লড়াই ছিল না; এটি ছিল সব মানুষের স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক মুক্তির অমূল্য সংগ্রাম। সেই আবহমান চেতনাকে ধারণ করেই একটি সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। যারা সুকৌশলে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলতে বা ভুলে যেতে চায়, তারা মূলত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে না।

একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করেন ফ্যাসিবাদবিরোধী সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলন এর আত্মত্যাগের ইতিহাস। দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক জঞ্জাল ও ১৫ বছরের গণতন্ত্রহীনতার বন্ধ্যদশা কাটিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে একাত্তরের সংগ্রাম এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান উভয় ঐতিহাসিক মাইলফলককেই সমানভাবে ধারণ করতে হবে। 

কবি কাজী নজরুল ইসলামের পঙ্ক্তি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, এ দেশের সব মানুষ একই মায়ের সন্তান; সুতরাং সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে মানুষে মানুষে কৃত্রিম দেওয়াল তোলার অপচেষ্টা কখনোই সফল হতে দেওয়া হবে না।

সংখ্যালঘু ও সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশের প্রতিটি নাগরিকের জানমাল এবং উপাসনালয়ের পূর্ণ নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসন কঠোর ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। বিগত দুর্গাপূজা, রথযাত্রাসহ প্রতিটি সনাতন ধর্মীয় উৎসবে সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সর্বাত্মক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা বেষ্টনী নিশ্চিত করেছে, যাতে কোনো কুচক্রী মহল বা দুর্বৃত্ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার দুঃসাহস দেখাতে না পারে।

নিজের নির্বাচনী এলাকার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুসম্পর্ক বজায় রেখেই সেখানে সব নাগরিকের অধিকার সমুন্নত রাখা হয়েছে। 

সনাতন সম্প্রদায়ের নেতাদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, কেবল মৌখিক অভিযোগ বা ক্ষোভ প্রকাশ না করে সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক দাবিগুলো সুসংগঠিতভাবে সরকারের নীতি নির্ধারণী মহলের কাছে তুলে ধরতে হবে। সরকার পারস্পরিক আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে প্রতিটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত দাবির ইতিবাচক সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়