রাজধানীসহ দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টির শঙ্কা
ফাইল ছবি
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও তীব্র জলাবদ্ধতা, কোথাও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি এমন বাস্তবতার মধ্যেই নতুন করে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি)।
সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার (১৩ জুলাই) দিনভর দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে পুনরায় ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
রবিবার দিনভর চলা ভারী বর্ষণের ধারাবাহিকতা গভীর রাত পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়ভাবে আরও বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় সড়কে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে হাঁটুসমান পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। কোথাও কোথাও গণপরিবহন চলাচল ধীর হয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। নিচু এলাকার বাসিন্দাদের অনেকের ঘরেও পানি প্রবেশের খবর পাওয়া গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের ভাষ্য, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকলেও আগের তুলনায় বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। তবে যেসব এলাকায় ইতোমধ্যে ভারী বর্ষণ হয়েছে, সেখানে নতুন করে বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
সিনপটিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি থেকে শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। এই অনুকূল আবহাওয়াগত অবস্থার কারণেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে এবং কোথাও কোথাও অতিভারী বর্ষণ হচ্ছে।
আরও পড়ুন: উজানের ঢল-বৃষ্টিতে ১২ জেলায় বন্যার আশঙ্কা
ভারী বর্ষণের কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও পার্বত্য এলাকার নদীগুলোর পানি বাড়তে থাকায় কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়ার ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সোমবার দুপুরের মধ্যে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে পুনরায় ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তাপমাত্রার ক্ষেত্রেও সামান্য পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। যদিও যেসব এলাকায় ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকবে, সেখানে দিনের অনুভূত তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস, নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং নদী অববাহিকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। তাই অতি প্রয়োজন ছাড়া অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলা, বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে অবস্থান না করা, নদীপথে চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








