উজানের ঢল-বৃষ্টিতে ১২ জেলায় বন্যার আশঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত
অতিবৃষ্টি এবং ভারতের আসাম ও মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের ১২টি জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে অথবা বিদ্যমান পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টায় এক সতর্কবার্তায় সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সতর্কবার্তা অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি; উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ; এবং উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদ-নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগ এবং উজানে ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণাধীন দেশের ১২৭টি গেজ স্টেশনের মধ্যে ৬৬টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, বিপরীতে ৬০টি পয়েন্টে পানি কমছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের ৫টি নদ-নদী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে ১০৭ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারী (চট্টগ্রাম) পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর পানি সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার ও সোমেশ্বরী নদীর পানি নেত্রকোণার কলমাকান্দা স্টেশনে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একদিকে যখন এই নদ-নদীগুলোর তীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে, অন্যদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মনু ও খোয়াই নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির পূর্বাভাসও দিয়েছে কেন্দ্রটি।
আরও পড়ুন: দেশের ৫ নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে
তবে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখলে দেখা যায়, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সুরমা নদীর পানি বেড়ে আশপাশের নতুন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ি ঢলের কারণে মুহুরী, হালদা, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা ও ভুয়াই-কংস নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এরই মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাঁচ জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।
সরকারি ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় বা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে প্রায় ৩৭ হাজার মানুষ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। পানিবন্দি মানুষের দুর্দশা লাঘবে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করে যাচ্ছেন। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদী তীরবর্তী জেলাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকা এবং জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








