নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:০৭, ৯ জুলাই ২০২৬
আপডেট: ১৫:০১, ৯ জুলাই ২০২৬

বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয় ঢাকা, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগ

বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয় ঢাকা, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগ

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় রাজধানী ঢাকার অবস্থান তৃতীয় হওয়াকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিষয়টিকে কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পরিবেশ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং রাজধানীসহ দেশের নগর পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার বসবাসযোগ্যতার বর্তমান অবস্থান দেশের জন্য সতর্কবার্তা। 

তিনি বলেন, বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান তৃতীয়। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসা খুবই জরুরি। বিষয়টিকে হালকা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই; আমাদের অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তা করতে হবে।

তিনি বলেন, একটি সভ্য ও আধুনিক রাষ্ট্রে পরিকল্পনাহীনভাবে যত্রতত্র শিল্প-কারখানা স্থাপন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিল্পায়ন প্রয়োজন, তবে তা অবশ্যই পরিবেশবান্ধব, পরিকল্পিত এবং জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনও পরিবেশ বিষয়ে পর্যাপ্ত সচেতন নন। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। যারা বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষা ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আরও পড়ুন: বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয় ঢাকা

তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, কোন অঞ্চলে কোন প্রজাতির গাছ উপযোগী, সেটিও জানতে হবে। পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশীয় ও উপকারী বৃক্ষরোপণে সবাইকে উৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে ইউক্যালিপটাসের মতো পরিবেশ ও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এমন গাছ রোপণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, সরকার তা বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রতি বছর গড়ে পাঁচ কোটি করে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশের সবুজায়ন বৃদ্ধি, বায়ুদূষণ কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। 

তিনি বলেন, এই উদ্যোগকে শুধু সরকারি কর্মসূচি হিসেবে নয়, জাতীয় আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বনাঞ্চল সম্প্রসারণ এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ অবদান রাখায় তিন ব্যক্তি ও তিন প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পরিবেশ পদক প্রদান করা হয়। এছাড়া জাতীয় বৃক্ষরোপণ পুরস্কারের সাতটি ক্যাটাগরিতে মোট ২১ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়। পরিবেশ ও বন খাতে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এসব পুরস্কার প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রভাবশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (EIU) সম্প্রতি ১৭৩টি শহর নিয়ে তাদের সর্বশেষ লাইভেবিলিটি ইনডেক্স প্রকাশ করেছে। ওই সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরের তালিকায় রাজধানী ঢাকার অবস্থান তৃতীয়। এর আগের বছর ২০২৫ সালেও একই অবস্থানে ছিল ঢাকা। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অবকাঠামো, পরিবেশ, স্থিতিশীলতা ও জীবনযাত্রার সামগ্রিক মান বিবেচনায় এই সূচক প্রস্তুত করা হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়