কর্মসংস্থানই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বুনছে বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ ও নারী জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টিকেই এখন প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো মিলনায়তনে আয়োজিত ‘পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে বৃক্ষরোপণ: এনজিওর ভূমিকা’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় এসব কথা উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। এতে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশের দুই শতাধিক এনজিও প্রতিনিধিও অংশ নেন।
মাহদী আমিন বলেন, বর্তমানে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে একটি স্পষ্ট বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে। অনার্স কিংবা পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের পরও অনেক শিক্ষিত তরুণ চাকরি পাচ্ছেন না, যা কাঠামোগত সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার এমন একটি “হোলিস্টিক ইকোসিস্টেম” গড়ে তুলতে চায়, যেখানে দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও কারিগরি যোগ্যতাকে শিক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তিনি বলেন, সবার অনার্স বা মাস্টার্স করার প্রয়োজন নেই; বরং টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষার মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমি কোলাবরেশন গড়ে তোলা জরুরি। বাস্তবমুখী দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষার উদ্দেশ্য নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে মাহদী আমিন বলেন, শুধুমাত্র সার্টিফিকেট অর্জন নয়, বরং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠা এবং অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারাটাই শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে এমনভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকবে।
আরও পড়ুন: ‘দেশীয় সম্পদ অবহেলা করে আমদানিনির্ভরতা বাড়িয়েছিল ফ্যাসিস্ট সরকার’
সরকারের তিন মাসের কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত কাজ শুরু করেছে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী, কৃষিঋণ, বৃক্ষরোপণ এবং খালখনন কর্মসূচির মতো বিভিন্ন উদ্যোগ ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অত্যন্ত বেশি এবং সেই প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত ১৮ বছরে যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ঘাটতি ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে, তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন মাহদী আমিন।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, জনগণের যৌক্তিক সমালোচনার অধিকার থাকতে হবে। আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থ, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়নের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করতে চায়।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু ইস্যুতে বক্তব্য দিতে গিয়ে মাহদী আমিন বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়, বরং সেগুলোর সঠিক পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার জন্য দক্ষ জনবলও প্রয়োজন।
তিনি জানান, বিদেশেও বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা বাড়ছে। তাই এনজিওগুলোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে জনশক্তিকে প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গঠনে এনজিওগুলোর অবদানের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে দেশের এনজিওগুলোর দীর্ঘদিনের কার্যকর ভূমিকা রয়েছে। সরকার এককভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থানে থেকে কোনো নীতি বাস্তবায়ন করতে চায় না; বরং এনজিওগুলোকে “ইমপ্লিমেন্টেশন পার্টনার” হিসেবে আরও শক্তিশালীভাবে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে সরকার এনজিও খাতের মতামত ও অংশগ্রহণকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি পরিবেশ উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ ও টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচিতে নিজেদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আগামী সময়ে কে কত পরিমাণ গাছ লাগাবেন, সে সম্পর্কেও বিভিন্ন সংগঠন থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়।
সূত্র: বাসস
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








