আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৩৬, ৫ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ১৪ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কতা

মধ্যপ্রাচ্যের ১৪ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কতা

ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিরাজমান তীব্র উত্তেজনা এবং যেকোনো মুহূর্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটার আশঙ্কায় অঞ্চলটির ১৪টি দেশের ওপর একযোগে নতুন ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ওইসব দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন। 

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (স্টেট ডিপার্টমেন্ট)-এর নির্দেশনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলো এই জরুরি নির্দেশনা জারি করে। 

কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কিছু সামরিক সংঘাতের জেরে অঞ্চলটির সামগ্রিক স্থিতিশীলতা এবং বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের সর্বশেষ ভ্রমণ নির্দেশনায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ঝুঁকির তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে মূলত দুটি প্রধান স্তরে বিন্যস্ত করেছে। প্রথমত, 'লেভেল-৩' সতর্কতার আওতাভুক্ত করা হয়েছে বাহরাইন, ইসরাইল, পশ্চিম তীর, জর্ডান, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই)। এই দেশগুলোর ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা বা পুনরায় ভেবে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যদিও এতে সরাসরি কোনো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। দ্বিতীয়ত, চরম ঝুঁকিপূর্ণ 'লেভেল-৪' সতর্কতার তালিকায় রাখা হয়েছে ইরান, ইরাক, লেবানন, সিরিয়া, গাজা ও ইয়েমেনকে। চলমান সশস্ত্র সংঘাত, সন্ত্রাসী হামলার উচ্চ ঝুঁকি এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে এসব দেশে মার্কিন নাগরিকদের কোনোভাবেই ভ্রমণ না করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: মার্কিন ভিসায় নতুন শর্ত, সোশ্যাল মিডিয়া ‘পাবলিক’ রাখার নির্দেশ

এই জরুরি সতর্কবার্তার অংশ হিসেবে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে একটি বিশেষ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল, জটিল এবং এটি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। যেকোনো মুহূর্তে বৈরি পরিবেশ তৈরি কিংবা আকস্মিক হামলা হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার, নিয়মিত ব্রেকিং নিউজের দিকে নজর রাখার এবং সর্বশেষ পরিস্থিতির খবর অনুসরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি অবস্থা মোকাবিলার সুবিধার্থে নাগরিকদের নিজ নিজ এলাকার নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলোর অবস্থান আগাম জেনে রাখার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছে দূতাবাস।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধবিরতির বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। বরং সাম্প্রতিক কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক ঘটনা এই অঞ্চলের নিরাপত্তাহীনতাকে আরও উসকে দিয়েছে। বিশেষ করে, গত বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ ও নজিরবিহীন ড্রোন হামলার ঘটনা পুরো অঞ্চলকে নতুন করে উদ্বেগের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ওই হামলায় একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৬৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

কুয়েত বিমানবন্দরের এই প্রাণঘাতী হামলার পর থেকেই মূলত পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং নতুন করে সতর্কতা জারির তোড়জোড় শুরু হয়। বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকেও নেওয়া হচ্ছে বাড়তি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, চলমান এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা যদি দ্রুত কোনো স্থায়ী সমাধানের দিকে না যায়, তবে আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল ও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠতে পারে।

(সূত্র: ইউএস অ্যাম্বাসি ও গালফ নিউজ)

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়