News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:১২, ২৬ মে ২০২৬

মার্কিন হামলার মুখেও হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়ে নতুন খসড়া ইরানের

মার্কিন হামলার মুখেও হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়ে নতুন খসড়া ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং দীর্ঘস্থায়ী বিশ্ব জ্বালানি সংকটের মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুদ্ধ অবসানের চুক্তির প্রায় ৩০ দিন পর এই নৌপথটি খুলে দেওয়ার একটি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে এই কূটনৈতিক তৎপরতার সমান্তরালেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর নতুন বিমান হামলা শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর এক ধরনের অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এই সংকটের বহুমাত্রিক দিক উঠে এসেছে।

জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া মধ্যপ্রাচ্যের একটি নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী ইরান ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের কাজ শুরু করতে সম্মত হতে পারে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিশ্ব বাণিজ্য ও সব দেশের জাহাজ চলাচলের জন্য এই জলপথটি সম্পূর্ণ অবাধ ও নিরাপদ ঘোষণা করা হবে। একই সাথে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে তেহরান যে ট্রানজিট ফি বা টোল আদায় আসছিল, তাও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

নিক্কেই এশিয়ার তথ্যমতে, এপ্রিলের শুরুতে দুই পক্ষের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, সেটির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই বর্ধিত দুই মাসের বিরতির সুযোগে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনায় বসতে পারে ওয়াশিংটন ও তেহরান।

এই সংকটের সূত্রপাত ঘটেছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর আকস্মিক হামলা শুরু করে। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং সংবেদনশীল তেল-গ্যাস পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলে ইরান। 

উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারে পরিবাহিত মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশই এই সংকীর্ণ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরপরই বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দেয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘ ৪০ দিন রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল উভয় পক্ষ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। বর্তমানে সেই যুদ্ধবিরতি চললেও নৌপথটি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব বজায় রয়েছে।

আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানে নতুন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

কূটনৈতিক আলোচনার এই টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। 

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা এবং মাইন স্থাপনের চেষ্টায় নিয়োজিত কিছু ইরানি নৌযানকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। 

সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই হামলাগুলো সম্পূর্ণ ‘আত্মরক্ষামূলক’ ছিল এবং চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

মার্কিন বাহিনী সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসের কাছের একটি এলাকা, যেখানে ইরানের একটি প্রধান নৌঘাঁটি অবস্থিত।

মার্কিন এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে নতুন করে ঝুঁকিতে ফেলেছে কিনা, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্লেষণ চলছে। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বান্দার আব্বাস এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর ইরানি কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে সর্বশেষ এই মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ইরান এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বা কড়া কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। 

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার খসড়া চুক্তি এবং অন্যদিকে মার্কিন বিমান হামলা এই দুই বিপরীতমুখী ঘটনার কারণে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার স্থিতিশীল করতে এই নৌপথটি খুলে দেওয়া এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়