News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:২৫, ২৬ মে ২০২৬
আপডেট: ১৯:২৯, ২৬ মে ২০২৬

ঈদযাত্রায় তিন দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল ৪৮ প্রাণ

ঈদযাত্রায় তিন দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল ৪৮ প্রাণ

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ছেড়ে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের মহাসড়কগুলোতে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। ঈদযাত্রার মাত্র তিনদিনে (২৩ মে থেকে ২৬ মে সকাল পর্যন্ত) টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া ও কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পৃথক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। 

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে শুধু সোমবারই (২৫ মে) সারা দেশে প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ জন, যা চলতি ঈদযাত্রায় এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড।

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ, ট্রাফিকের বেপরোয়া গতি এবং বিকল্প হিসেবে ট্রাকে যাত্রী পরিবহনের কারণেই দুর্ঘটনার তীব্রতা ও প্রাণহানি এত বেশি হয়েছে।

চলতি ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বড় ও মর্মান্তিক বিপর্যয়টি ঘটেছে সোমবার (২৫ মে)। এদিন দেশের অন্তত আটটি জেলায় পৃথক দুর্ঘটনায় ২৮ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের কালিহাতী এলাকায়। সেখানে উত্তরবঙ্গগামী একটি রডবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন যাত্রী নিহত হন। 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদের বাড়তি ভাড়ার কারণে বাসের টিকিট কাটতে না পেরে খেটে খাওয়া এসব মানুষ কম খরচে বাড়ি ফিরতে ওই ট্রাকে চড়েছিলেন।

আরও পড়ুন: ঈদযাত্রার শুরুতেই সড়কে মহা বিপর্যয়: সারা দেশে নিহত ২৬

একই দিন কিশোরগঞ্জে একটি বেপরোয়া পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন; মৃতদের মধ্যে রয়েছেন স্বামী, স্ত্রী ও তাদের ছয় বছরের এক শিশু সন্তান। এছাড়া বগুড়ায় পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় চারজন, সিরাজগঞ্জে সিএনজি-ট্রাক সংঘর্ষে তিনজন, মানিকগঞ্জে সিএনজি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে একজন, নোয়াখালীতে নসিমন উল্টে একজন খামারি এবং গোপালগঞ্জে বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এক চালক নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন।

এর আগে ২৩ মে (শনিবার) থেকে মহাসড়কগুলোতে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুর্ঘটনার মিছিল শুরু হয়। এদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, যশোর, ফরিদপুর ও গাজীপুরে পৃথক দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হন। এর মধ্যে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের খোকসায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও ড্রাম ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাসটি খাদে পড়ে চারজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হন। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন এবং যশোরের চাউলিয়ায় ইজিবাইক, ভ্যান ও কাভার্ডভ্যানের ত্রিমুখী সংঘর্ষে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া ফরিদপুর ও গাজীপুরে সড়ক পারাপার ও গাড়ি সংঘর্ষে আরও দুজন নিহত হন। পরদিন ২৪ মে (রবিবার) যানবাহনের চাকা সচল থাকলেও বিশৃঙ্খল ওভারটেকিংয়ের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আরও ৮ জন সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারান।

হাইওয়ে পুলিশের সতর্কতা: ঈদযাত্রায় যাতায়াত নিরাপদ করতে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলেও, আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াতের কারণেই টাঙ্গাইলের মতো বড় দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে চালকদের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীদের নিরাপদ যানবাহনে ভ্রমণের জন্য বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়