চাঁদা না দেওয়ায় হামলা, চট্টগ্রামে ইন্টারনেট বন্ধের হুঁশিয়ারি
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেটের (ডিডিএন) কার্যালয়ে চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)। এ সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা না হলে চট্টগ্রাম বিভাগে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন আইএসপিএবি নেতারা। সংবাদ সম্মেলনের পর প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আইএসপিএবি চট্টগ্রাম বিভাগের আহ্বায়ক রাজিব শাহরিয়ার রুবেন্স।
তিনি বলেন, শনিবার ডিডিএনের কাছে ফোনে চাঁদা দাবি করা হয়। এরপর সোমবার দুপুরে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিরাপত্তার অভাবে কর্মস্থলে যেতে ভয় পাচ্ছেন।
রুবেন্স বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত চাঁদাবাজি, হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছে। এটি কোনো একক প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়; বরং পুরো আইএসপি খাতের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা সংকট। বর্তমানে দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন ও জনসেবার বড় অংশই ইন্টারনেটনির্ভর। তাই ইন্টারনেট অবকাঠামোর ওপর হামলা দেশের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করার অপচেষ্টা বলেই তারা মনে করছেন।
আইএসপিএবি নেতারা বলেন, জনস্বার্থে এখন পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা চালু রাখা হয়েছে। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার করা না হলে তারা কঠোর কর্মসূচি হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিএবি কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালক রাশিদুর রহমান রাজনসহ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা
সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ডিডিএনের কার্যালয়ে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, দেশের সব আইএসপি প্রতিষ্ঠান ও তাদের নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার করা, আইএসপি খাতে সংঘটিত চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ।
এর আগে, ১১ মে প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুন জানান, বিদেশি একটি নম্বর থেকে দুই দিন আগে ফোন করে ডেভিড ইমন (মোবারক হোসেন ইমন) পরিচয়ে তার কাছে ফোন করে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি








