ইন্টারনেট চালুর সিদ্ধান্ত আটকাল বিচার বিভাগ, নতুন সংকটে ইরান
ছবি: সংগৃহীত
প্রায় তিন মাসের দীর্ঘ ইন্টারনেট অচলাবস্থার পর সংযোগ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েও নতুন সংকটে পড়েছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগ প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গঠিত সেই বিশেষ সংস্থার কার্যক্রম স্থগিত করেছে, যারা ইন্টারনেট পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত দিয়েছিল।
মঙ্গলবার দেশটির বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট মিজান অনলাইন এ তথ্য জানিয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগ দায়েরের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হলেও, অভিযোগকারীদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
স্থগিত হওয়া সংস্থাটির নাম ‘দেশের সাইবার পরিসর সংগঠন ও পরিচালনার বিশেষ সদর দপ্তর’। গত ১২ মে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এই সংস্থা গঠন করেন। পরে সোমবার সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, সংস্থাটি দেশে ইন্টারনেট সংযোগ পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে ইরানে ইন্টারনেট চালু বা বন্ধ করার চূড়ান্ত ক্ষমতা রয়েছে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের হাতে। ফলে নতুন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এদিকে একই দিনে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, তাদের তথ্য অনুযায়ী দেশে আংশিকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ ফিরে আসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় প্রথম বড় পরিসরে ইন্টারনেট সীমিত করা হয়। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হলে প্রায় পুরো দেশেই ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় সাধারণ মানুষ মূলত অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক ও স্থানীয় ওয়েবসাইট ব্যবহারে সীমাবদ্ধ ছিলেন।
আরও পড়ুন: এআই জেনারেটেড কন্টেন্ট এর প্রসার সীমিত করবে লিংকডইন
পরবর্তীতে ‘ইন্টারনেট প্রো’ নামে স্তরভিত্তিক একটি ব্যবস্থা চালু করা হয়। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে সীমিত আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়।
নেটব্লকস-এর তথ্য অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল পর্যন্ত এই ব্ল্যাকআউট ছিল বিশ্বের ইতিহাসে জাতীয় পর্যায়ে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার অন্যতম ঘটনা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








