ইথিওপিয়ায় ইবোলা-সদৃশ নতুন ভাইরাসের সন্ধান, ডব্লিউএইচও-র সতর্কতা
ছবি: সংগৃহীত
আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় ইবোলা-সম্পর্কিত একটি নতুন ভাইরাসের সম্ভাব্য সংক্রমণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।
সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, এই ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে এবং এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা রাখে এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাপক সংক্রমণের নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে পরিস্থিতিকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কড়া বার্তা দিয়েছে।
উপসর্গ ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একাধিক উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, বমি, ডায়রিয়া এবং তীব্র শরীর ব্যথা। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক রক্তক্ষরণের লক্ষণও দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা-সম্পর্কিত এই ধরনের ভাইরাসগুলো সাধারণত প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে তা দ্রুত মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে। আফ্রিকার পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে অতীতেও এ জাতীয় প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছিল।
আরও পড়ুন: ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাস: দুই বছরে ৯ মৃত্যু, সতর্কবার্তা আইইডিসিআরের
ইথিওপিয়া সরকারের পদক্ষেপ ও নজরদারি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইথিওপিয়া সরকার দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা শুরু করেছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে নিবিড় নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত আইসোলেশন ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া ভাইরাসটি যেন কোনোভাবেই অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE) নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছে প্রশাসন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অবস্থান ইথিওপিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশটির জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। নিয়মিত হাত ধোয়া, অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়ানো এবং উপসর্গ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নতুন নতুন ভাইরাস নিজেদের অভিযোজিত করছে। এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় দ্রুত ও স্বচ্ছ তথ্য আদান-প্রদান এবং আন্তর্জাতিক সমন্বিত উদ্যোগ সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








