ডেঙ্গুতে ঝরল আরও ৩ প্রাণ, নতুন আক্রান্ত ৫৩৪
ফাইল ছবি
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৫১২ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত নিয়মিত ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে খুলনা বিভাগে দুজন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে একজন রয়েছেন। আর নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৮৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭৬ জন এবং ঢাকা বিভাগের অন্যান্য এলাকায় (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এছাড়া বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ৭৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৫ জন, খুলনা বিভাগে ৮৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩৪ জন, রংপুর বিভাগে ২৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৩ জন এবং সিলেট বিভাগে একজন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী। ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে মোট ১৪ হাজার ১৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল জুলাই মাসেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৫২ জন, যা মোট আক্রান্তের একটি বড় অংশ।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, হাসপাতালে ৫১২
এছাড়া চলতি জুলাই মাসে ডেঙ্গুতে মোট ২৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর আগে জান্নাতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে ১ জন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আক্রান্তদের মধ্যে প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি ফিরেছেন।
বিশেষজ্ঞ কীটতত্ত্ববিদ ও চিকিৎসকরা বলছেন, বর্তমান বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার প্রজনন ও বিস্তার আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে গেছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত সচেতনতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও যেন বৃষ্টির পানি বা জমে থাকা পানি ২ থেকে ৩ দিনের বেশি না থাকে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পাশাপাশি ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার এবং দিনের বেলাও মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, শরীরে উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, মাংসপেশি বা হাড়ের জোড়ায় ব্যথা কিংবা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো কোনো উপসর্গ দেখা দিলে কোনো অবস্থাতেই তা অবহেলা করা যাবে না। লক্ষণ দেখা মাত্রই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। ডেঙ্গু নিশ্চিত হলে রোগীকে পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার ও পানি পান করার পাশাপাশি সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে এবং অবশ্যই চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








