নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ২৮ জুলাই ২০২৬

ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, হাসপাতালে ৫১২

ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, হাসপাতালে ৫১২

ফাইল ছবি

সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৫১২ জন। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ১৪ হাজার ১৫৬ জনে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে প্রাণ হারানো তিনজনের মধ্যে দুজন খুলনা বিভাগের এবং একজন চট্টগ্রাম বিভাগের।

নতুন আক্রান্ত ৫১২ জনের বিভাগভিত্তিক ও এলাকাভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় সর্বোচ্চ ৮৫ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। 

এছাড়া ঢাকা বিভাগের অন্যান্য এলাকায় (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪০ জন, খুলনা বিভাগে ৮৪ জন, বরিশাল বিভাগে ৭৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩৪ জন, রংপুর বিভাগে ২৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৩ জন এবং সিলেট বিভাগে একজন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ১ মৃত্যু, হাসপাতালে ৫৪৬

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি জুলাই মাসেই ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৫২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর জুলাই মাস জুড়েই মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যার পরিমাণ ২৯ জন। এর বাইরে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ২ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ২ জন, মে মাসে ১ জন এবং জুন মাসে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মার্চের মাসজুড়ে কোনো মৃত্যুর রেকর্ড না থাকলেও এপ্রিল মাসেও মৃত্যু শূন্য ছিল।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৩২ জন রোগী। এর ফলে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার ৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঐতিহাসিক তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সরকারি হিসাব রাখা শুরু হয়। এ যাবতকালের মধ্যে ২০২৩ সালটি ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ওই বছর দেশে রেকর্ড ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১ হাজার ৭০৫ জন। এর আগের বছরগুলোতেও ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ দেখেছে দেশ, যেখানে বিগত বছরগুলোতেও শতাধিক মানুষের মৃত্যুর রেকর্ড রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, বর্ষা মৌসুমের এই সময়ে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এবং এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংসে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর পক্ষ থেকে জোরালো পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি ঘরবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং দিনে কিংবা রাতে যেকোনো সময়ে ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়