নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৫২, ২৮ জুলাই ২০২৬

২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৯০৪

২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৯০৪

ফাইল ছবি

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯০৪ শিশুর শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে ১০৫ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে, আর উপসর্গের ভিত্তিতে শনাক্ত হয়েছে আরও ৭৯৯ জন। 

সর্বশেষ এই তথ্যের মধ্য দিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২৮ জনে। মৃতদের মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ছিল ৯৫ শিশু এবং উপসর্গভিত্তিক (সন্দেহজনক) হামে মারা গেছে ৭৩৩ শিশু।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র প্রকাশিত নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিন ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২৮ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৪ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫ হাজার ৬৬০ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৪ হাজার ২৩৫ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের সবাই সন্দেহজনক হামের রোগী ছিল। এর মধ্যে দুটি মৃত্যু ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে এবং একটি রাজশাহী বিভাগে। এ সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ফলে নিশ্চিত হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯৫-এ অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিভাগভিত্তিক সংক্রমণের চিত্রেও ঢাকা বিভাগ এখনো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৩৭ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর চট্টগ্রামে ২১৫ জন, বরিশালে ১৩১ জন, সিলেটে ৮৩ জন, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহে বাকি রোগীরা শনাক্ত হয়েছেন। পরীক্ষায় নিশ্চিত ১০৫ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪৮ জন, চট্টগ্রামে ২৩ জন এবং রংপুরে ২২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। 

আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে দেশে আরও ৫ মৃত্যু, মোট ৮২৫

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামগ্রিক তথ্যেও দেখা যাচ্ছে, চলমান প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক থেকে ঢাকা বিভাগই শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ।

হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছে। ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার ৯৪০ জন শিশুকে এমআর টিকা দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১০৩ শতাংশ। 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও সংক্রমণের শৃঙ্খল পুরোপুরি ভাঙতে আরও সময় লাগতে পারে। কারণ টিকা গ্রহণের পর শরীরে পর্যাপ্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠতে সাধারণত দুই থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে। পাশাপাশি যেসব শিশু এখনো টিকার বাইরে রয়েছে বা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়েছে, তাদের দ্রুত আওতায় আনা জরুরি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এর আগে সতর্ক করে বলেছেন, সাম্প্রতিক এই প্রাদুর্ভাবের পেছনে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, পূর্ববর্তী সময়ে এমআর টিকার সরবরাহ সংকট এবং টিকাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়াই প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী এবং টিকা না পাওয়া শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, শিশুদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী হাম-রুবেলা টিকা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শিশুর জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, চোখ লাল হওয়া বা হামের অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়