লালমনিরহাট সংবাদদাতা || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৪২, ৬ জুন ২০২৬

লালমনিরহাট সীমান্ত থেকে ৩৩ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

লালমনিরহাট সীমান্ত থেকে ৩৩ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর পুশ-ইনের (জোরপূর্বক সীমান্ত পারাপার) একটি বড় অপচেষ্টা সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় সচেতন জনতা। 

বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে, শেষমেশ রাতের আঁধারে সীমান্তের লাইট বন্ধ করে জিরো পয়েন্টে আটকে থাকা নারী ও শিশুসহ ৩৩ জন মানুষকে নিজেদের ভূখণ্ডেই ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।

এই ঘটনার মাধ্যমে সীমান্তে বিএসএফ-এর চরম অমানবিক চেহারা যেমন উন্মোচিত হয়েছে, তেমনি বিজিবি ও গ্রামবাসীদের প্রতিরোধের মুখে রাতের অন্ধকারে লাইট নেভানোর মতো চোরের মতো পথ অবলম্বন করে ভারতীয় বাহিনীর পিছু হটার ঘটনাটি তাদের চরম ব্যর্থতাকেই প্রমাণ করেছে।

সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে লালমনিরহাটের তিনটি উপজেলার পৃথক তিন সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। এর মধ্যে হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা সীমান্তে ১১ জন, পাটগ্রাম উপজেলার পয়ষট্টিবাড়ি সীমান্তে ১০ জন এবং আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তে আরও ১২ জনের একটি দলকে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

দুর্গাপুর সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর এই সন্দেহভাজন ও আগ্রাসী তৎপরতা টের পেয়ে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীদের সতর্ক করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় জনতা একজোট হয়ে সীমান্তে কঠোর অবস্থান নিলে বিএসএফ-এর পুশইনের চেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে যায়। বিজিবির কড়া পাহারার কারণে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এক পা-ও বাড়াতে পারেনি।

পুশ-ইন মিশনে ব্যর্থ হওয়ার পর বিএসএফ ওই অসহায় মানুষগুলোকে চরম বৈরী পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেয়। ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে নো-ম্যানস ল্যান্ডে খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজিয়ে রাখা হয় তাদের। বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে তাদের কোনো খাবার বা মানবিক সহায়তা তো দেওয়া হয়ইনি, উল্টো নিজেদের দেশের সীমানার ভেতরেও যেতে বাধা দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় সঙ্গে থাকা শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়লে বিএসএফ-এর নিষ্ঠুরতার বিপরীতে অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাংলাদেশি নাগরিকরা।

সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, সকাল হওয়ার পর দেখি কাঁটাতারের ওপাশে জিরো পয়েন্টে নারী-শিশুরা খোলা আকাশের নিচে বসে কাঁদছে। বিএসএফ তাদের ওদিকে যেতে দিচ্ছে না, খাবারও দেয়নি। একটা বাচ্চা গরমে আর না খেয়ে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। ওর কান্না দেখে আর সহ্য করতে পারিনি। পরে আমরা কয়েকজন মিলে কাঁটাতারের এপাশ থেকে ইশারায় ডেকে ওদের কিছু জরুরি ওষুধ আর বিস্কুট-পানি এগিয়ে দিয়েছি।

আরও পড়ুন: ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ১৭ কি.মি. যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ফকিরপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লিটন মিয়া জানান, রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে লোকগুলো অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশের মানুষই এগিয়ে গিয়ে তাদের খাবার ও ওষুধ বিতরণ করে। রাতে তাদের লাইট বন্ধ করে নিয়ে গেছে। তবে ভোরে আবারও চেষ্টা করেছে তারা।

বিজিবির অনড় অবস্থান ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে ভারতের এই পুশ-ইন মিশন সম্পূর্ণ মুখ থুবড়ে পড়ে। দিনের আলোতে কোনো উপায় করতে না পেরে শেষমেশ চরম লজ্জাজনক ও চোরের মতো পথ বেছে নেয় ভারতীয় বাহিনী। রাতের আঁধারে সীমান্তের লাইট ও সার্চলাইট পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়ে জিরো পয়েন্টে আটকে থাকা ৩৩ জনসহ সব মানুষকে নিজেদের ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরেই দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ। আলো নেভানোর এই অপকৌশলই প্রমাণ করে যে, তারা বিজিবির মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছিল এবং নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই অন্ধকারে এই কাজ করেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট ৬১ বিজিবি সহকারী পরিচালক আব্দুল রাজ্জাক মন্ডল। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে কড়া নজরদারি ও টহল জোরদার রাখা হয়েছে যাতে ভারতীয় বাহিনী আর কোনো ধরণের অনাকাঙিক্ষত বা উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়