নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:২৫, ১৫ আগস্ট ২০২৬

মাদারীপুরে মাদরাসায় ককটেল বিস্ফোরণে ৫ শিক্ষার্থী আহত

মাদারীপুরে মাদরাসায় ককটেল বিস্ফোরণে ৫ শিক্ষার্থী আহত

ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরের কালকিনি পৌর এলাকার গোপালপুর দারুস সুন্নাহ মহিলা মাদরাসায় ভয়াবহ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচ শিশুশিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। 

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাদরাসার ভেতর এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আবিদা আক্তার নামের এক শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে।

ঘটনাসূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালেও শিক্ষার্থীরা মাদরাসায় শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে জড়ো হয়। মাদরাসার নিচতলায় ইমন সরদার নামে এক ব্যক্তির বসতঘরের সামনে বলসদৃশ একটি বস্তু পড়ে থাকতে দেখে শিক্ষার্থীরা। কৌতূহলী শিশুরা বস্তুটিকে খেলনা ভেবে হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করার মুহূর্তেই বিকট শব্দে ককটেলটি বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় চারপাশ কেঁপে ওঠে এবং ঘটনাস্থলেই পাঁচ শিক্ষার্থী রক্তাক্ত জখম হয়। 

আহত শিক্ষার্থীরা হলো আবিদা আক্তার (১১), জান্নাত (১২), তাসমিয়া আক্তার (১১), মিনহা (১১) এবং সুলতানা (১১)। এদের মধ্যে আবিদার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে দ্রুত জেলা হাসপাতাল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। অপর চারজনকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সাভারে শক্তিশালী প্রেশারকুকার বোমা নিষ্ক্রিয়, বিকট শব্দে আতঙ্ক

ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে কালকিনি থানা-পুলিশ, র‍্যাব ও সিআইডির বিশেষ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। 

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর-কালকিনি সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, বিস্ফোরিত বস্তুটি ছিল ককটেলজাতীয়, যা দেখতে অনেকটা টেনিস বল বা জর্দার কৌটার মতো ছিল। 

পুলিশের তথ্যমতে, বস্তুটি সম্ভবত আগের দিন শুক্রবার থেকেই মাদরাসার সিঁড়ির কাছে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। শিশুরা না বুঝে সেটি নিয়ে খেলা করার সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিস্ফোরণ ঘটে। এটি বাইরে থেকে নিক্ষেপ করা হয়নি বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। তবে ককটেলটি সেখানে কীভাবে এলো বা এর নেপথ্যে কোনো নাশকতা বা স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারের বিরোধ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সিআইডি ও পুলিশ যৌথভাবে ব্যাপক অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

মাদরাসার মুহতামিম হাফিজুর রহমান এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, হঠাৎ এমন বিস্ফোরণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা চরম আতঙ্কিত। যে ঘরের সামনে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেই ঘরের বাসিন্দা ইমন সরদার বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। 

মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা অখিল সরকার জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে ও পায়ে বোমার স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্তকরণ ও বোমার উৎস খুঁজে বের করতে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুরো ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে একটি স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়