News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৫৯, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

স্বর্ণ ও রুপার দামে আবারও পতন

স্বর্ণ ও রুপার দামে আবারও পতন

ফাইল ছবি

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে আবারও বড় পতন হয়েছে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। 

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দর অনুযায়ী, সবথেকে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা হ্রাস পেয়েছে। 

স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটি। স্বর্ণের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে রুপার দামও, যা একই সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে।

বাজুসের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল এই মানদণ্ডের স্বর্ণের ভরি ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। তারও আগে ১৫ এপ্রিল যখন দাম বাড়ানো হয়েছিল, তখন এর দাম রেকর্ড ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকায় পৌঁছেছিল। অন্যান্য মানের স্বর্ণের মধ্যে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই দফায় ভরিতে মোট ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমলো স্বর্ণের দাম।

আরও পড়ুন: সোনার দামে বড় পতন: ভরিতে কমল ৩২৬৬ টাকা

স্বর্ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভরিতে ২৩৩ টাকা কমানো হয়েছে রুপার দাম। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। গত ২৩ এপ্রিল এই মানদণ্ডের রুপার দাম ৩৫০ টাকা কমানো হয়েছিল, যার ফলে দুই দফায় মোট ৫৮৪ টাকা কমল রুপার দর। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং দেশীয় চাহিদার কথা মাথায় রেখে রুপার এই নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাজুস।

চলতি ২০২৬ সালের শুরু থেকেই দেশের স্বর্ণের বাজারে চরম অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম চার মাসেই এখন পর্যন্ত মোট ৫৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩২ বার দাম বেড়েছে এবং ২৫ বার কমেছে। অন্যদিকে, এ বছর রুপার দাম এখন পর্যন্ত মোট ৩৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে। বিগত ২০২৫ সালেও স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা ছিল; সে বছর মোট ৯৩ বার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে দাম পরিবর্তনের তীব্রতা ও ঘনঘন সমন্বয় আরও বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে স্বর্ণের দামে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের নতুন প্রস্তাবের খবরে বৈশ্বিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে বৈশ্বিক এই উত্থান-পতনের মাঝেও দেশের বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কম থাকাকেই দাম কমানোর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বাজুস। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবের বিপরীতে দেশের বাজারে দাম কমানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়