নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৪১, ৩১ জুলাই ২০২৬

আল-আরাফাহ্ ব্যাংকে ফিরল পুরোনো উদ্যোক্তারা

আল-আরাফাহ্ ব্যাংকে ফিরল পুরোনো উদ্যোক্তারা

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে বিতর্ক ও নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। নতুন এই পর্ষদ গঠনের মাধ্যমে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ আবারও ঘুরেফিরে পুরোনো উদ্যোক্তাদের হাতে ফিরে গেছে। 

গত ১৫ জুলাই ব্যাংকটির পর্ষদ পুনর্গঠিত হওয়ার পর থেকেই ব্যাংক খাতের ভেতরে ও বাইরে নানামুখী আলোচনা, সমালোচনা এবং উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, চট্টগ্রামভিত্তিক শীর্ষ শিল্পগ্রুপ কেডিএস গ্রুপের ব্যাপক মাত্রায় প্রাধান্য এবং অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের পর্ষদে স্থান পাওয়া নিয়ে গভীর প্রশ্ন উঠেছে। 

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দীর্ঘ সময়জুড়ে ব্যাংকটি বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক স্বতন্ত্র পরিচালকদের নিয়ে একটি নিরপেক্ষ পর্ষদ গঠন করেছিল। প্রায় দুই বছর ধরে সেই স্বতন্ত্র পর্ষদ ব্যাংকটির সুশাসন ফেরানোর চেষ্টা চালালেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিগত বা নীতিনির্ধারক মহলের নানা তত্পরতার মুখে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ পুনরায় পুরোনো মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেডিএস গ্রুপের আধিপত্য এবং আইনি মারপ্যাঁচ
নতুন পুনর্গঠিত পর্ষদে শেয়ারধারীদের মধ্য থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ১৪ জনকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়, যার মধ্যে কেবল কেডিএস গ্রুপ এবং এর শীর্ষ নেতৃত্বের আত্মীয়স্বজন থেকেই অন্তত ৬ জন স্থান পান। 

এই তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা হলেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, তার ছেলে ও ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান সেলিম রহমান, খলিলুর রহমানের ভাই আহমেদুল হক, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলের প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং কেওয়াই স্টিল মিলসের প্রতিনিধি মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন তসলিম। এছাড়া গ্রুপটির অন্যান্য আত্মীয়স্বজনও পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। 

তবে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, একই পরিবার বা গ্রুপ থেকে তিনজনের বেশি পরিচালক থাকার কোনো আইনি সুযোগ না থাকায় তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর জেরে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় কেডিএস গ্রুপের প্রতিনিধি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন তসলিম পদ গ্রহণ না করে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে তাদের শূন্য পদে খন্দকার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদকে নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নতুন পর্ষদে ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যাংকেরই সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান। অন্যদিকে, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান। 

পর্ষদে অন্যান্যদের মধ্যে বিগত নির্বাচনে জামায়াতের টিকিটে ঢাকা-৭ আসন থেকে নির্বাচন করা মো. এনায়াত উল্লাসহ রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম এবং লিয়াকত আলী চৌধুরী পরিচালক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

বিলাসবহুল মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি ক্রয় কেলেঙ্কারি ও অন্যান্য অনিয়ম
আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পুরোনো পর্ষদ ও শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতীতে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কেপিএমজি এবং ব্যাংকটির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ তদন্তে। 

তদন্তে দেখা যায়, ব্যাংকের সাবেক দুই চেয়ারম্যানের ব্যবহারের জন্য নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার দুটি বিলাসবহুল মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি কেনা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি গাড়ি তৎকালীন চেয়ারম্যান ও বর্তমান নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান কেডিএস গ্রুপের সেলিম রহমানের জন্য কেনা হয়। ২০২২ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৩৭৪তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় তাঁর গাড়ি কেনার জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকার সীমার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পর্ষদের সেই অনুমোদন ও সীমাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা খরচ করে মার্সিডিজ বেঞ্জের একটি প্রিমিয়াম গাড়ি কেনা হয়, যা অনুমোদিত সীমার চেয়ে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা বেশি।

অনুরূপভাবে, ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে কোনো ধরনের যথাযথ অনুমোদন বা তোয়াক্কা না করেই অপর সাবেক চেয়ারম্যান এবং এস আলম গ্রুপের সাইফুল আলমের ভাই আবদুস সামাদ লাপুর জন্য ৩ কোটি ২৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় ঠিক একই মডেলের আরেকটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি কেনা হয়। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের হিসাব ও গতিবিধি সম্পূর্ণ গোপন রাখতে গাড়ি দুটি সরাসরি মূল ব্যাংকের নামে নিবন্ধন না করে দুটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এআইবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস লিমিটেডের নামে কেনা হয়। 

আরও পড়ুন: প্রায় দুই বছর পর নীতি সুদহার কমালো বাংলাদেশ ব্যাংক

গাড়ি কেনার এই বিশাল অঙ্কের টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাংকের সাধারণ সাসপেন্স অ্যাকাউন্ট, অ্যাডজাস্টমেন্ট অ্যাকাউন্ট এবং ক্ষতিপূরণ আদায়কৃত হিসাব-এর মতো অননুমোদিত ও গোপন পথ ব্যবহার করা হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, গাড়ি দুটি কেনার পর মূল ব্যাংক কিংবা সংশ্লিষ্ট সাবসিডিয়ারি কোম্পানির কোনো ফিক্সড অ্যাসেট (স্থায়ী সম্পদ) রেজিস্টারেও তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং এর বিপরীতে কোনো ধরনের অবচয় বা ডেপ্রিসিয়েশনও হিসাবভুক্ত করা হয়নি। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর আপত্তি ও চাপের মুখে গাড়ি দুটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের হেফাজতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং জড়িত নির্বাহী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করাসহ অননুমোদিত অর্থ পুনরুদ্ধারে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

পাশাপাশি, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষভাগে এস আলম গ্রুপ যখন ন্যাশনাল ব্যাংক দখল করে, তখন সেটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে অপসারণ করে। কিন্তু বর্তমান পুনর্গঠিত পর্ষদে তাকেই আবার আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক করা হয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়িত্বে থাকাকালীন সংঘটিত বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগও করেন।

পর্ষদের প্রথম সভাতেই অস্থিরতা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক
নতুন পর্ষদ ক্ষমতা গ্রহণের পর পরই ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন ও কর্মপরিবেশে তীব্র অস্থিরতা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 

ব্যাংকটির একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার অভিযোগ, বিগত দিনে বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও অনিয়মের দায়ে চাকরিচ্যুত হওয়া বেশ কয়েকজন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে আবারও পুনরায় ব্যাংকে ফিরিয়ে আনার গোপন তত্পরতা শুরু হয়েছে। এমনকি নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের প্রথম বৈঠকেও বরখাস্ত হওয়া এমন কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। ১৯ জন পরিচালক নিয়ে গঠিত পর্ষদ সভার সর্বোচ্চ ২৫ জনের উপস্থিতির নিয়ম থাকার কথা থাকলেও প্রথম সেই সভায় অননুমোদিতভাবে ৪০ জনেরও বেশি মানুষের সমাগম ঘটে। সভায় কেডিএস গ্রুপের প্রতিনিধিরা পুনরায় ফিরে আসায় তাদের অনুসারী ও কিছু কর্মকর্তা উল্লাস প্রকাশ করলেও ভেতরে ভেতরে চরম অস্বস্তিতে ছিলেন স্বতন্ত্র পরিচালকেরা।

এদিকে নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ব্যাংকের একজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মোহাম্মদ হোসেনকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকটির শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা, বিশেষ করে নতুন চেয়ারম্যান বদিউর রহমান, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান সেলিম রহমান এবং কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশে গত দুই বছরে নতুন যোগদানকারী এবং দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কর্মীরা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যাংকের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, তিনি উভয় পক্ষের সার্বিক সম্মতিতে এবং সমঝোতার ভিত্তিতেই ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। পর্ষদ সভার দিন অতিরিক্ত লোকজন দেখা করতে আসার কারণে পরিবেশ কিছুটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

ডিএমডির পদত্যাগের বিষয়ে তার দাবি, ওই উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন এবং পর্ষদের পক্ষ থেকে তার ওপর কোনো ধরনের পদত্যাগের চাপ বা নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগে যাদের চাকরি পূর্বে চলে গেছে, তাদের পুনরায় চাকরিতে ফিরিয়ে আনার কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি দাবি করেন। ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে আমানতকারীদের কষ্টার্জিত অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকে নতুন করে কোনো ধরনের অনিয়ম হতে না দেওয়াই তাঁর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।

স্বাধীন নিরীক্ষা, স্বতন্ত্র পর্ষদের অবদান ও বর্তমান আর্থিক অবস্থা
গত ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন বিতর্কিত পর্ষদ ভেঙে দিয়ে লংকাবাংলা ফিন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা শাহরিয়ারের নেতৃত্বে পাঁচজন বিশিষ্ট স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়ে একটি পেশাদার পর্ষদ গঠন করেছিল। 

পর্ষদের অন্য স্বতন্ত্র পরিচালকেরা হলেন মো. শাহীন উল ইসলাম, মো. আবদুল ওয়াদুদ, এম আবু ইউসুফ এবং মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান। এই স্বতন্ত্র পরিচালকদের দীর্ঘ দুই বছরের কার্যকালে দেশি-বিদেশি নামী বেনামী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ব্যাংকটিতে পুঙ্খানুপুঙ্খ নিরীক্ষা চালানো হয়। সেই নিরীক্ষায় এস আলম আমলের ভয়াবহ সব অনিয়ম, লুণ্ঠন ও দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে আসে।

১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি বর্তমানে বেশ চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিগত বছরগুলোর অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যাংকটির খেলাপির হার অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৬১ শতাংশে। গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ৫৪ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা এবং মোট ঋণ বা বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার ১২১ কোটি টাকা। ভয়াবহ উচ্চ খেলাপির কারণে ব্যাংকটি গত বছর কেবল ৮৫ কোটি টাকার নিট মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয় এবং শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড দিতে না পারায় শেয়ারবাজারে এটি বর্তমানে জেড ক্যাটেগরিতে অবনমিত হয়েছে। দেশজুড়ে ব্যাংকটির ২২৬টি শাখা এবং ৫ হাজার ৫৯৩ জন কর্মী কর্মরত রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন ও সতর্কতা
ব্যাংক খাতের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, ব্যাংকগুলো শেষ পর্যন্ত শেয়ারধারী পরিচালকদের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে এটি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক নিয়ম। কিন্তু অতীতে এই শেয়ারধারীরা ব্যাংকগুলোকে কোন পর্যায়ে নিয়ে গেছেন এবং এর ফলে হাজার হাজার সাধারণ আমানতকারী আজ কীভাবে তাদের আমানতের টাকা ফেরত পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, তা পুরো জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। 

তাই ব্যাংক খাতের এই নাজুক পরিস্থিতিতে নতুন করে এমন কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে পর্ষদে দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়, যারা ব্যাংকের জন্য সামান্যতম ঝুঁকিও তৈরি করতে পারেন। অতীতে সংঘটিত সব অনিয়মের সঠিক ইতিহাস ও পটভূমি পর্যালোচনা করেই কেবল পরিচালক পদে নিয়োগ চূড়ান্ত করা উচিত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা নীতিনির্ধারক মহল যদি পুনরায় কোনো অদৃশ্য স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবে বা চাপে ব্যবহৃত হয়, তবে তা পুরো জাতির আর্থিক খাতের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও বিপর্যয়কর ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়