নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:৩৮, ৩০ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝেও বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানির দাম

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝেও বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানির দাম

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও জটিল আকার ধারণ করলেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সাময়িক স্বস্তির আভাস দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটগুলো দিয়ে ট্যাংকার চলাচল অব্যাহত থাকায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। 

এর প্রভাবে আগের দিনের বড় উত্থানের পর বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২৯ ডলার বা ১ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে ৮৯ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৫৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৯০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, সেটিই গত কয়েক দিনের মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। তবে এখন পর্যন্ত উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থাও সক্রিয় থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আস্থা ফিরেছে।

এর আগে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়। আগের কার্যদিবসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৭ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটগুলো ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কায় বাজারে হঠাৎ করে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছিল।

এর কয়েক দিন আগে সংঘাতের মধ্যে সাময়িক বিরতির সম্ভাবনা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে উল্টো চিত্র দেখা যায়। তখন বিনিয়োগকারীরা সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির আশা করায় ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় বাজার আবারও অস্থির হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: গ্যাস খুঁজতে কেনা হচ্ছে আরও দুটি আধুনিক রিগ

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উত্তপ্ত। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরের সংযোগকারী এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। অতীতে এই পথ বন্ধ বা বড় ধরনের বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে।

তবে এবার বাজারের গতিপ্রকৃতি কিছুটা ভিন্ন। সামরিক উত্তেজনা বাড়লেও তেলবাহী জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগেনি। ফলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি থাকলেও বাস্তব সরবরাহ পরিস্থিতি বাজারকে কিছুটা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে তেলের বাজার মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং বড় উৎপাদক দেশগুলোর সরবরাহ পরিস্থিতি। যদি সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে দাম আবারও দ্রুত বাড়তে পারে। বিপরীতে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বর্তমান মূল্যস্তর থেকে আরও কিছুটা চাপ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য তেলের বাজারের এই ওঠানামা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেলে পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবৃদ্ধি অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে।

তবে আপাতত আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের প্রধান নজর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পরবর্তী গতিপথ এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা কতটা স্থিতিশীল থাকে তার ওপর।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়