২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যু
ফাইল ছবি
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সময়ে নতুন করে ২০১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং আরও ১ হাজার ১৭ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। সর্বশেষ এই হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬৩ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে ৯৬ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (০৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া তিনজনই হামের উপসর্গে আক্রান্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন সিলেট বিভাগের এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। এ সময়ে নিশ্চিত হামে মৃত্যুর কোনো ঘটনা নিবন্ধিত হয়নি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর কারণ ও রোগের অবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত রোগনির্ণয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নতুন আক্রান্তের হিসাবেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২০১ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৯৪১ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৭ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হওয়ায় মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৫৫ জনে।
আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮১৮
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলমান প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৮২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৫২৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০১ জন এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৪৩ জন। এতে বোঝা যাচ্ছে, প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হলেও বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ফিরছেন।
বিভাগভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে সংখ্যা ৩৮৪। এর পর রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪৩ জন, বরিশালে ১২৫ জন, সিলেটে ৯৬ জন, ময়মনসিংহে ৬২ জন, খুলনায় ৫৬ জন, রাজশাহীতে ৩৪ জন এবং রংপুর বিভাগে ১৭ জন। জনঘনত্ব ও মানুষের চলাচল বেশি হওয়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রামে সংক্রমণের চাপ তুলনামূলক বেশি থাকছে বলে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১০৬ শতাংশ শিশুকে ইতোমধ্যে টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি জ্বর ও র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া, আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা এবং অপুষ্ট শিশুদের বিশেষ নজরদারিতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। দুই ডোজ হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তারা অভিভাবকদের কোনো শিশুর টিকা বাদ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ, কাশি, চোখ লাল হওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত শনাক্ত, চিকিৎসা এবং টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








