ডেঙ্গুতে নতুন আক্রান্ত ১৯৫, মৃত্যু শূন্য
ফাইল ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে একই সময়ে নতুন করে ১৯৫ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৪০৯ জনে।
বুধবার (০৫ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম প্রকাশিত সর্বশেষ ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা মহানগরে ৬০ জন এবং ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলায় ২১ জন রয়েছেন। অর্থাৎ ঢাকা বিভাগে মোট ৮১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৭ জন, বরিশাল বিভাগে ১৫ জন, খুলনা বিভাগে ১০ জন এবং রংপুর বিভাগে ১২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদিন রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে নতুন কোনো রোগী ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
চলতি বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৭ হাজার ৪০৯ জনের মধ্যে ১৬ হাজার ৬৯ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এক হাজার ২৮১ জন রোগী। চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৯৯ জন।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৫৮০
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ বছর আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী। অন্যদিকে ডেঙ্গুতে মৃতদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ নারী। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটায় মৃত্যুর সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বর্ষা মৌসুমের সঙ্গে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির পানি জমে থাকা, অপর্যাপ্ত মশকনিধন কার্যক্রম এবং অনুকূল আবহাওয়া এডিস মশার বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জ্বর দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি অপসারণের মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর জোর দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষণেও চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে গত কয়েক বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা যান ৪১৩ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্ত ছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। আর দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গু পরিস্থিতি তৈরি হয় ২০২৩ সালে, যখন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং প্রাণ হারান ১ হাজার ৭০৫ জন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে স্বাস্থ্য বিভাগ চলতি মৌসুমেও নিয়মিত নজরদারি, হাসপাতাল প্রস্তুতি এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের কথা জানিয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








