নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৩৬, ৫ আগস্ট ২০২৬

হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

ফাইল ছবি

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নতুন করে ১২৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৯৫৯ জন। যদিও এ ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষায় কারও মৃত্যু নিশ্চিত হামজনিত হিসেবে শনাক্ত হয়নি, তবে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাবে হাম ও হামের উপসর্গ মিলিয়ে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫৪ জনে।

বুধবার (০৫ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (কন্ট্রোল রুম) প্রকাশিত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সর্বশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৪ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে ৫ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া পাঁচজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। তবে এ সময়ে পরীক্ষাগারে কারও মৃত্যু নিশ্চিত হামজনিত হিসেবে প্রমাণিত হয়নি।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ৯৬ জন। অর্থাৎ নিশ্চিত ও সন্দেহজনক উভয় ধরনের মৃত্যু মিলিয়ে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৮৫৪ জন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২৪ জনের শরীরে হাম ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৬৫৫ জন। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগীর মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৯০৫ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৫৯ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের মধ্যে ৮৪১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে এ সময়ে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, যেখানে ভর্তি হয়েছে ২৭৮ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৪ জন, সিলেটে ১১৯ জন, বরিশালে ১১৪ জন, খুলনায় ৬০ জন, ময়মনসিংহে ৩৭ জন, রাজশাহীতে ৩১ জন এবং রংপুর বিভাগে ৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,১৩৭

অন্যদিকে বিভাগভিত্তিক সন্দেহজনক রোগী শনাক্তের ক্ষেত্রেও শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৩৯৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, সিলেটে ১১৯ জন, বরিশালে ১১৪ জন, খুলনায় ৬০ জন, ময়মনসিংহে ৩৭ জন, রাজশাহীতে ৩১ জন এবং রংপুরে ১০ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৪ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৫ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন কয়েক হাজার রোগী।

বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে মারা গেছেন ৩৩০ জন। এরপর রয়েছে সিলেট বিভাগে ১১৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৯১ জন, ময়মনসিংহে ৭১ জন, চট্টগ্রামে ৬১ জন, বরিশালে ৪৫ জন, খুলনায় ৩২ জন এবং রংপুর বিভাগে ১৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাম প্রতিরোধে সারা দেশে জাতীয় হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে টিকাদানের কভারেজ ১০৬ শতাংশে পৌঁছেছে। 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কভারেজ ১০০ শতাংশের বেশি হওয়ার অর্থ হলো নির্ধারিত লক্ষ্য ছাড়াও অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার হলেও যেসব এলাকায় আগে নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি ছিল কিংবা যেসব শিশু সময়মতো এমআর টিকা পায়নি, সেসব এলাকাতেই এখনো সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। তারা অভিভাবকদের শিশুদের জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত বয়সে সব শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রোগ শনাক্তকরণ, নজরদারি, চিকিৎসা ও টিকাদান কার্যক্রম একযোগে জোরদার করা হয়েছে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পাশাপাশি শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়