স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:৩৭, ৫ অক্টোবর ২০২৬

বিমানের ১০ এয়ারবাস কেনার চুক্তি ৭ অক্টোবর

বিমানের ১০ এয়ারবাস কেনার চুক্তি ৭ অক্টোবর

ছবি: সংগৃহীত

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি আগামী ৭ অক্টোবর ঢাকায় সই হবে। এয়ারবাস ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করবেন।

রবিবার (৪ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

রাজধানীর র‍্যাডিসন হোটেলে বুধবার সন্ধ্যায় চুক্তি সই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

চুক্তির আওতায় চারটি এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ কেনা হবে। এ৩৫০-৯০০ দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে এবং এ৩২১নিও আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহারের উপযোগী।

এর আগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ ১০টি এয়ারবাস কিনবে। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা ১০টি এয়ারবাস কিনছি। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবরে চুক্তি হবে।

মন্ত্রী জানিয়েছেন, এয়ারবাসগুলোর সরবরাহ ২০৩৩ সালে শুরু হতে পারে এবং ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত তা চলতে পারে। তবে উড়োজাহাজগুলো কেনার মোট বাণিজ্যিক মূল্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

চারটি এ৩৫০-৯০০ দিয়ে বিমানের ভবিষ্যৎ দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটের চাহিদা পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে ছয়টি এ৩২১নিও আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহার করা হবে। তুলনামূলক কম যাত্রী ধারণক্ষমতার এসব উড়োজাহাজের মাধ্যমে যেখানে বড় উড়োজাহাজ প্রয়োজন নেই, সেখানে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

এয়ারবাসের উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে বোয়িংয়ের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের এয়ারবাস উড়োজাহাজও থাকবে। অতীতে বিমানের বহরে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ থাকলেও বর্তমানে সংস্থাটির জেট উড়োজাহাজের বড় অংশই বোয়িংয়ের তৈরি। ফলে নতুন এয়ারবাসগুলো যুক্ত হলে বিমান দুই নির্মাতার উড়োজাহাজের সমন্বয়ে বহর পরিচালনা করবে।

এয়ারবাসের সঙ্গে এই চুক্তি বিমানের বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। এর আগে বিমান আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজসহ মোট ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

পরে ওই পরিকল্পনায় আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত হয়। এর মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮। ফলে বিমানের পরিকল্পিত বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে।

এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হলে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় পরিকল্পনায় নতুন বোয়িং ও এয়ারবাস উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে মোট ৩৫টি। এর মধ্যে ১৯টি হবে ওয়াইড-বডি এবং ১৬টি ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ।

আরও পড়ুন: প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

নতুন উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি সক্ষমতার চাহিদা পূরণে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিমান।

আগামী ৭ অক্টোবর এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি সই হলে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় তা গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে এত দিন বোয়িংনির্ভর ক্রয় পরিকল্পনায় আনুষ্ঠানিকভাবে এয়ারবাসও যুক্ত হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়