শ্রীলঙ্কার কাছে বিধ্বস্ত হয়ে ব্রোঞ্জও হারাল বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত
আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ছেলেদের ক্রিকেট ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়েও হতাশার হার নিয়ে আসর শেষ করল বাংলাদেশ। জাপানের করোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত তৃতীয় স্থান নির্ধারণী প্লে-অফ ম্যাচে শক্তিশালী শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে পরাজিত হয়েছে লিটন দাসের দল। এর ফলে স্বর্ণ বা পদক জয়ের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য পূরণ না হয়ে নারী দলের মতো পুরুষ ক্রিকেটারদেরও খালিহাতে দেশে ফিরতে হচ্ছে।
টসে হেরে প্রথমে ফিল্ডিং করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু পেয়েছিল বাংলাদেশের বোলাররা। ২১ রান তুলতেই শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডারের ৪ উইকেট তুলে নেন টাইগার বোলাররা। এরপর ৫৪ রানে পড়ে ৫ উইকেট। তবে ষষ্ঠ উইকেটে দলের অধিনায়ক সাহান আরাচিগে এবং থারিন্দু রত্নায়েকে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই জুটি মাত্র ৪৬ বলে ৯৩ রান যোগ করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। থারিন্দু রত্নায়েকে ৩২ বলে ৭টি চার ও ৫টি ছক্কায় ঝোড়ো ৬৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ওভার শেষে শ্রীলঙ্কা ১৬৫ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায়। বাংলাদেশের পক্ষে মেহেদী হাসান, সাইফ হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান ২টি করে উইকেট নিলেও খরুচে ছিলেন। অভিষিক্ত আলিস আল ইসলাম ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান খরচ করে ১ উইকেট শিকার করেন।
জবাবে ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় স্কোর বোর্ডে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান। তিনে নেমে অধিনায়ক লিটন দাসও কোনো রান না করেই গোল্ডেন ডাক মেরে বোল্ড হন। মাত্র ৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় চলে যাওয়া দল এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তাওহীদ হৃদয় ১১ ও পারভেজ হোসেন ইমন ২০ রান করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনে বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হয়নি। শেষদিকে নবম উইকেটে নাসুম আহমেদের ২৮ বলে ২৬ রানের লড়াকু ইনিংস কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কিছুটা কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১৭.৩ ওভারে মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের কাছে হেরে বাংলাদেশের স্বর্ণ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ
ব্রোঞ্জ পদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হেরে পদক হাতছাড়া করায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। সংবাদ সম্মেলনে নিজের ও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। প্রথম আট ওভার দারুণ বোলিং করলেও শেষের দিকে প্রতিপক্ষ ব্যাটারের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের বিপক্ষে বোলারদের কোনো ক্লু না পাওয়ার কথা স্বীকার করেন লিটন।
সাংবাদিকদের বারবার করা নেতৃত্ব বা পদত্যাগ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে কিছুটা বিরক্ত ও ব্যঙ্গাত্মক সুরে তিনি বলেন, এশিয়ান গেমস থেকে রিজাইন করলাম।
পরবর্তীতে আরও স্পষ্ট করে তিনি জানান যে ক্রিকেটে উত্থান-পতন স্বাভাবিক, আর দুই ম্যাচে খারাপ খেলার কারণে পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই আসে না।
এছাড়া এশিয়ান গেমস চলাকালে খেলোয়াড়দের টিম ম্যানেজমেন্টকে না জানিয়ে হোটেলের বাইরে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, খাদ্যাভ্যাস ও প্রয়োজনীয় অনুশীলনের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় খেলোয়াড়দের বাধ্য হয়েই বাইরে যেতে হয়েছিল।
দলের এই শোচনীয় পারফরম্যান্সে তীব্র লজ্জা ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ দলের কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন। জাপানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি পুরো জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং বলেন যে কোচ হিসেবে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। পাওয়ার প্লেতে অতিরিক্ত উইকেট হারানো এবং ডেথ ওভারে বোলারদের চরম দায়িত্বহীন বোলিংকেই এই বড় ব্যবধানে হারের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগে এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে বাংলাদেশ দল প্রতিবারই ক্রিকেটে পদক নিয়ে দেশে ফিরেছিল। ২০১০ সালের প্রথম আসরে স্বর্ণপদক জয়ের গৌরব অর্জন করলেও আইচি-নাগোয়া আসরে পূর্ণ শক্তির দল পাঠিয়েও পদক তালিকায় নাম লেখাতে না পারা দেশের ক্রিকেটের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








