নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:১৬, ২১ আগস্ট ২০২৬

মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানালেন ভারতের রাষ্ট্রপতি

মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানালেন ভারতের রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। 

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জয়লাভ করেন, যেখানে তিনি ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। 

এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কূটনীতিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শপথগ্রহণের পরপরই বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা ও শুভকামনা ব্যক্ত করেন। 

আরও পড়ুন: ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

বিবৃতিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ জনজীবনের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রজ্ঞা বাংলাদেশের জনগণের সেবায় একটি অত্যন্ত সফল মেয়াদের সূচনা করবে। 

তিনি তার বার্তায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অব্যাহত সুস্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত সুখ এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সার্বিক সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির কামনায় ভারতের রাষ্ট্রপতির এই শুভেচ্ছা বার্তা দুই দেশের মধ্যকার সুসম্পর্কের গভীরতাকে প্রতিফলিত করে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ককে অনন্য হিসেবে অভিহিত করে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু উল্লেখ করেন যে, এই দ্বিপাক্ষিক বন্ধন অভিন্ন ইতিহাসের আত্মত্যাগ, ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন এবং বন্ধুত্বের উষ্ণতার ওপর সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি, প্রযুক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, যুব উন্নয়ন, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার মতো বহুমুখী ক্ষেত্রে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হয়েছে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন। 

ভারতের রাষ্ট্রপতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার বিদ্যমান অংশীদারত্বকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে তিনি বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন।

এর আগে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের দিন শুক্রবার জুমার নামাজের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শপথগ্রহণের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতির উদ্দেশ্যে তার কর্মপরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়ে সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় নিরলস কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৩৫ বছর পর এ ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে এই পরিবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়