৯ মাস পর মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ছে লিংকন
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ৯ মাসেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সামরিক অভিযানে যুক্ত থাকার পর অবশেষে স্বদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও ক্রু সদস্য নিয়ে গঠিত এই রণতরিটি যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর পথে রওনা দিয়েছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এই রণতরিটির স্থলাভিষিক্ত হয়েছে জাপানে মোতায়েন থাকা অপর বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতির মাধ্যমে এই পালাবদলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। প্রথমে ভেনেজুয়েলা উপকূলে দায়িত্ব পালনের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে রণতরিটি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের আবহে রণতরিটি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে প্রায় ২৬০ দিনেরও বেশি সময় কোনো উল্লেখযোগ্য বন্দর বিরতি ছাড়াই একটানা সমুদ্রে কাটিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে অপারেশনে থাকার একটি রেকর্ড গড়েছে।
এই দীর্ঘ মেয়াদে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কাজ করতে গিয়ে রণতরিটির নাবিক ও ক্রুদের জীবনযাত্রার মান নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নানা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় জাহাজে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, সুপেয় পানি এবং খাদ্যসংকটের গুঞ্জন ওঠে। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকায় নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ও চরম ক্লান্তি নিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করেন।
আরও পড়ুন: পানামা খালে জাহাজ চলাচলে ফের বিধিনিষেধ
রণতরিটির ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে ওঠা সমালোচনা ও নেতিবাচক প্রতিবেদনগুলোকে সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপিত এবং বিভ্রান্তিকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা সামরিক অভিযানের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মার্কিন সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সম্প্রতি রণতরিটি পরিদর্শন করেন এবং নাবিকদের অসামান্য দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে জানান যে, আধুনিক যুগের অন্যতম তীব্র ও ফলপ্রসূ অপারেশন সফলভাবে শেষ করে তাঁরা এখন ঘরের পথ ধরেছেন।
আব্রাহাম লিংকনের বিদায়ের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন শক্তির শূন্যতা তৈরি হতে না দিয়ে সেখানে দ্রুত এসে পৌঁছেছে ইউএস জর্জ ওয়াশিংটন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ।
সেন্টকম জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা ও রোটেশনের অংশ হিসেবে রণতরিটি ইতিমধ্যেই আরব সাগর ও সেন্টকমের অপারেশনাল এলাকায় কার্যক্রম শুরু করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগর এবং এর বাইরে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রায় ২০টি যুদ্ধজাহাজ ও দুটি বড় ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ (ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও জর্জ ওয়াশিংটন) সক্রিয় রয়েছে, যা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বাণিজ্য ও বন্দর অবরোধ কর্মসূচি কার্যকর রাখতে কাজ করছে।
তবে এ নিয়ে ভূরাজনৈতিক মহলে ভিন্ন আলোচনাও রয়েছে। এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ায় পূর্ব এশিয়ায় আমেরিকার প্রধান কৌশলগত প্রতিপক্ষ চীনের বিপরীতে একটি সাময়িক শক্তির ফাঁক তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তা সত্ত্বেও হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক আধিপত্য বজায় রাখতে এবং ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখতে অনড় অবস্থানে রয়েছে। আগামী চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের নিজ সান দিয়েগো ঘাঁটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








