দেশে হামের ভয়াবহতায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৯২৮
ফাইল ছবি
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শুক্রবার (২১ আগস্ট) পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২৮ জনে।
এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৯ শিশু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮২৯ শিশুর। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর প্রায় ৮৯ শতাংশই হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৯৪০ শিশু। তাদের মধ্যে ৬৪ জনের শরীরে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি ৮৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের একজন ঢাকা, একজন সিলেট এবং একজন খুলনা জেলার। ফলে সংক্রমণের বিস্তার যেমন অব্যাহত রয়েছে, তেমনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।
আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ধারাবাহিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে পরিস্থিতির ব্যাপকতা আরও স্পষ্ট হয়। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১ জনে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ২০৮ জনের শরীরে। অর্থাৎ সন্দেহজনক রোগীর তুলনায় নিশ্চিত রোগীর সংখ্যাও ১৮ হাজারের বেশি। চলতি সংক্রমণপর্বে হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক শিশু ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসাব্যবস্থার ওপরও দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি হয়েছে।
এর আগে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৯০৮। তখন হামের উপসর্গে মৃত্যু ছিল ৮০৯ এবং নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ছিল ৯৯। এরপর ১৮ আগস্ট পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯১৮ হয়। ওই সময়ও নিশ্চিত হামে নতুন কোনো মৃত্যুর তথ্য ছিল না। অর্থাৎ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রাণহানির প্রধান অংশটি এখনো হামের উপসর্গে মারা যাওয়া শিশুদের।
আগস্টের মাঝামাঝি সময়েও প্রতিদিন নতুন রোগী ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক ছিল। ১২ আগস্টের প্রতিবেদনে এক দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২৫ শিশুর আক্রান্ত হওয়ার তথ্য আসে এবং মোট প্রাণহানি দাঁড়ায় ৮৮৫। পরদিনও একই সংখ্যক নতুন রোগী এবং আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। ১৬ আগস্ট পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৭ এবং নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৮৮০-তে পৌঁছেছিল; হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৭ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩৯ জন। এর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সন্দেহজনক রোগী ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১ এবং নিশ্চিত রোগী ১৮ হাজার ২০৮-এ পৌঁছানোয় সংক্রমণের চাপ পুরোপুরি কমেনি বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








