নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৯:২৬, ১৯ আগস্ট ২০২৬

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও তিন জেলার ডিসি প্রত্যাহার

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও তিন জেলার ডিসি প্রত্যাহার

ফাইল ছবি

মাঠ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে নাটোর, গাইবান্ধা ও রংপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেছে সরকার। 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গভীর রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই চার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এই রদবদলের বিষয়টি বুধবার সকালে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তবে প্রত্যাহারের কারণ সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনগুলোতে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে প্রত্যাহার হওয়া চার কর্মকর্তার স্থলে নতুন কোনো জেলা প্রশাসক বা বিভাগীয় কমিশনার নিয়োগের আদেশও মঙ্গলবার রাতে জারি করা হয়নি। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মাঠ প্রশাসনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. এ এন এম বজলুর রশীদ, নাটোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসমা শাহীন, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা এবং রংপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রুহুল আমিন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন: পদত্যাগ করছেন পিএসসি চেয়ারম্যান

প্রশাসনিক এই পরিবর্তনের নেপথ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা না হলেও, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা বা বিশেষ কোনো প্রেক্ষাপটে সরকার মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিষয়ে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। 

উল্লেখ্য, এই চার কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হলেও, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তাদের স্থলে কোনো নতুন পদায়ন বা নতুন জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের নাম ঘোষণা করেনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বজায় থাকবে।

দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনার পদগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বসহ সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে কার্যকর করতে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররা প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করেন। ফলে এই চার গুরুত্বপূর্ণ পদে দ্রুত নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার অর্থ হলো, তাদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং নতুন কোনো পদায়নের আগ পর্যন্ত তারা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সংযুক্ত থাকবেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়