শ্রমিকই সমৃদ্ধ বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি: মাহদী আমিন
ছবি: নিউজবাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, শ্রমজীবী মানুষই দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রার প্রধান চালিকাশক্তি। শ্রমিকের নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
শুক্রবার (০১ মে) মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর কান্ট্রি ডিরেক্টরসহ দেশি-বিদেশি অতিথি, শ্রমিক সংগঠনের নেতা ও শিল্পোদ্যোক্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রমেই শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে ওঠে। তাই শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এসবকে একটি দায়িত্বশীল সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, শ্রমবান্ধব নীতি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
মে দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি ১৮৮৬ সালের হে-মার্কেটে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসসহ শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মদানকারী শ্রমিকদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী সকল শ্রমিকের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
আরও পড়ুন: গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের অধিকাংশই শ্রমিক: প্রতিমন্ত্রী অমিত
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন, শ্রমিকের দুটি হাতই রাষ্ট্র ও সমাজের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। তাঁর সময়েই প্রবাসী শ্রমবাজার, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা দেশের অর্থনীতিতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। একই ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর নেতৃত্বাধীন সরকারগুলো শ্রম আইন সংস্কার, মজুরি কমিশন গঠন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে।
বর্তমান সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৯টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকল অনুস্বাক্ষর করেছে। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সময়মতো বেতন-ভাতা প্রদান, মজুরি পর্যালোচনা, নারী-পুরুষ সমান মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগকেও তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত হলেই একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এ লক্ষ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, যা ভবিষ্যৎ টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভিন্নমতের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আদর্শিক পার্থক্য থাকলেও গণতন্ত্র সুসংহত করা, জনগণের সমস্যা সমাধান এবং স্থিতিশীল সমাজ গঠনে পারস্পরিক সহযোগিতার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, সরকারের ধারাবাহিক নীতিগত উদ্যোগের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন, যুবসমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতায়ন আরও জোরদার করা হবে। প্রতিটি শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








