News Bangladesh

স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৫৫, ৬ মার্চ ২০২৬

ফেব্রুয়ারিতে সড়কে প্রাণ গেল ৪৪৭ জনের

ফেব্রুয়ারিতে সড়কে প্রাণ গেল ৪৪৭ জনের

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের সড়কপথ যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছিল। মাসজুড়ে ৪৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ১৮১ জন।

শুক্রবার (৬ মার্চ) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার খবর পর্যালোচনা করে সংগঠনটির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়কের পাশাপাশি রেল ও নৌপথেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফেব্রুয়ারিতে রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে নৌপথে ৬টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৪৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৯৭ জন আহত হয়েছেন।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। মাসজুড়ে ১৫১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৭ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। বিভাগভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এখানে ১১৩টি দুর্ঘটনায় ১১৫ জন নিহত হয়েছেন। বিপরীতে বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ২২টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৮৫ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ৩ জন পুলিশ সদস্য, ৩ জন সেনা সদস্য, ১ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী এবং ২ জন আনসার সদস্য রয়েছেন। এছাড়া ৮৫ জন চালক, ৭২ জন পথচারী, ৪৩ জন নারী, ৪১ জন শিশু এবং ৪৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ৪১ দশমিক ৭৪ শতাংশ ছিল গাড়িচাপা এবং ৩৩ দশমিক ২৫ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা। দুর্ঘটনার স্থান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪২ দশমিক ৬৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে এবং ২৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে।

প্রতিবেদনে যানবাহনের ত্রুটি ও বেপরোয়া গতিকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফিডার রোড থেকে হঠাৎ মহাসড়কে যানবাহন ওঠা এবং পর্যাপ্ত সড়কচিহ্নের অভাবকেও দায়ী করা হয়েছে।

সংগঠনটি আরও বলেছে, সড়ক পরিবহন খাতে অনভিজ্ঞতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নীতিগত দুর্বলতা দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে। নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা, নসিমন-করিমন ও মোটরসাইকেলের অবাধ চলাচল পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান ও আমিরাতের প্রেসিডেন্টের ফোনালাপ

দক্ষ চালকের অভাব, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতা সড়কে মৃত্যুহার বাড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর সংস্কার ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়