News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:২৭, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবে না যে ৬ শ্রেণির মানুষ

ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবে না যে ৬ শ্রেণির মানুষ

ফাইল ছবি

দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিশেষ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। 

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রণীত ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন-২০২৬’ অনুযায়ী, প্রতিটি তালিকাভুক্ত পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি নগদ আর্থিক সহায়তা পাবে। কর্মসূচির মূল দর্শন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’। 

সরকারের লক্ষ্য হলো, এই সহায়তার মাধ্যমে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সুরক্ষা দেওয়া। নগদ অর্থের পাশাপাশি প্রয়োজনে সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করার পরিকল্পনাও নীতিমালায় রাখা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডের জন্য মূলত সাত ধরনের পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার, প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা পরিবার, হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মতো অনগ্রসর জনপদ এবং সর্বোচ্চ দশমিক ৫ একর জমির মালিক এমন পরিবার।

আরও পড়ুন: দলবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের লক্ষ্যে নতুন সরকারের শুদ্ধি অভিযান

এই কর্মসূচির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, সহায়তার অর্থ পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর নামে প্রদান করা হবে, যা তৃণমূল পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সরকার। তবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পরিবারের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে সংরক্ষিত থাকবে।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, সমাজের প্রকৃত দুস্থ ও কর্মজীবী পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে ছয়টি বিশেষ শ্রেণিকে এই সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। কোনো পরিবারের সদস্য যদি সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগী হন, তবে তারা এই কার্ড পাবেন না। এছাড়া বাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহারকারী, নিজস্ব গাড়ি বা বিলাসবহুল সম্পদের মালিক, বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারী এবং বড় ব্যবসার মালিকরা এই কার্ড পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। মূলত উচ্চবিত্ত ও সচ্ছল পরিবারগুলোকে বাদ দিয়ে কেবল হতদরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য এই সুরক্ষা বলয় তৈরি করা হচ্ছে।

পাইলট প্রকল্প চলাকালীন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোতে সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রম সফল হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে সারা দেশে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগ্রহী ব্যক্তিরা তখন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর কার্যালয় এবং সরকারি ডেডিকেটেড অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, রঙিন ছবি এবং একটি সচল মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই প্রাথমিক পর্যায়ের কার্ড বিতরণ সম্পন্ন করা হবে এবং পরবর্তীতে এই সহায়তার পরিমাণ ও পরিধি আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়