News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৪৫, ২০ মার্চ ২০২৬

মিথ্যা হত্যা মামলা থেকে মুক্তি পেলেন শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জন

মিথ্যা হত্যা মামলা থেকে মুক্তি পেলেন শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জন

ফাইল ছবি

ঢাকার কেরানীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ১১ বছর বয়সী কিশোর জিহাদকে ‘নিহত’ দেখিয়ে দায়ের করা হত্যা মামলা থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জন আসামিকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। তদন্তে তথাকথিত ‘নিহত’ জিহাদকে জীবিত পাওয়ায় এবং মামলার বর্ণনায় চরম অসঙ্গতি ধরা পড়ায় আদালত এই আদেশ দেন।

শুক্রবার (২০ মার্চ) আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) আবদুল নূর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এই অব্যাহতির আদেশ প্রদান করেন। এর আগে ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বদিয়ার রহমান তদন্ত শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন।

অব্যাহতি পাওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন।

বাদী মো. জহিরুল ইসলাম রাজু অভিযোগ করেছিলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের সময় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওয়াশপুর বছিলা ব্রিজের নিচে আসামিদের নির্দেশে জিহাদকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে ৮ অক্টোবর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিসহ ১২৪ জনকে আসামি করা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, ভুক্তভোগী জিহাদ আসলে জীবিত রয়েছেন। মামলার এজাহার ও ঘটনার বর্ণনার মধ্যে অসঙ্গতি ছিল, এবং বাস্তব ঘটনাজিহাদের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল সাভারের বাইপাইল এলাকায়, যা পরবর্তীতে হাজারীবাগ থানার অধীনে হয়েছে। কেরানীগঞ্জে ‘হত্যা’ হিসেবে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে ফেরাতে নতুন করে ব্যবস্থা নেবে সরকার: চিফ প্রসিকিউটর

পুলিশি তদন্তে দেখা গেছে, জিহাদ বাম পায়ের গোড়ালিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন এবং এনাম মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আদালতে জিহাদ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে নিশ্চিত করেন যে, তিনি মৃত নন।

তদন্তে আরও প্রমাণিত হয়েছে, মামলাটি দেওয়া হয়েছিল কিছু অসাধু ব্যক্তির প্ররোচনা এবং আর্থিক লোভে। ঘটনার প্রকৃত স্থান ও সময় ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যা তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হয়।

ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না বলেন, মামলার এজাহার, চার্জশিট এবং ভুক্তভোগীর জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, এটি হত্যা মামলা হলেও ভুক্তভোগী জীবিত রয়েছেন। তিনি কেবল জখমপ্রাপ্ত হয়েছেন, যা নিজেই আদালতে স্বীকার করেছেন। এ অবস্থায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।

ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এ ধরনের মিথ্যা মামলা করার প্রবণতা অনেক ক্ষেত্রে স্বার্থান্বেষী মহল দ্বারা সংঘটিত হয়। মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করলে আইন অনুযায়ী শাস্তি আছে, যদিও আমাদের দেশে এর নজির কম, তিনি যোগ করেন।

মামলার সন্দেহপ্রবণ আসামি আব্দুল মতিন হাওলাদারের আইনজীবী ওবাইদুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের মিথ্যা মামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্ত যথাসময়ে হলে এসব হয়রানি এড়ানো যেত। বাদীকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক বদিয়ার রহমান বলেন, মামলাটিতে দুটি মূল ভুল হয়েছে ভুক্তভোগীকে মৃত দেখানো এবং আশুলিয়ার ঘটনায় কেরানীগঞ্জে মামলা করা। তদন্ত শেষে সত্যতা না পেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তবে বাদীর ছেলে আহত হওয়ার প্রকৃত ঘটনায় আলাদা মামলা দায়ের হয়েছে।

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না মামলার এজাহার, চার্জশিট ও ভুক্তভোগীর জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছেন যে, এটি হত্যা মামলা হলেও ভুক্তভোগী জীবিত রয়েছেন। শুধুমাত্র জখম হওয়ার ঘটনাকে হত্যা হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। সেই কারণে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়