আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৪৬, ২৮ আগস্ট ২০২৬

২৯ সেপ্টেম্বর ১,৪৭৬ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাবে মালয়েশিয়া

২৯ সেপ্টেম্বর ১,৪৭৬ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাবে মালয়েশিয়া

ফাইল ছবি

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন কর্মসূচির প্রথম ধাপের আনুষ্ঠানিক তারিখ চূড়ান্ত করেছে মালয়েশিয়া। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বাড়তে থাকা সামাজিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং জনমিতির চাপ সামাল দিতে দেশটির সরকারের নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

কুয়ালালামপুরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ১ হাজার ৪৭৬ জন মিয়ানমারের নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। মিয়ানমার সরকারের গত ১৩ আগস্টের পাঠানো কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে এবং দুই দেশের যৌথ সমন্বয় সভায় এই তারিখ চূড়ান্ত করা হয়।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রথম দফার প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে মিয়ানমার নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ এবং একটি হাসপাতাল জাহাজ ব্যবহার করা হবে। দেশটির স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের সমন্বয়ে লজিস্টিক বা অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মূলত প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রশাসন মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ধাপে ধাপে মোট ৫ হাজার নাগরিককে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। 

তবে মালয়েশিয়া সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে শরণার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তা সর্বাগ্রে বিবেচনা করা হবে। 

আরও পড়ুন: ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরানোর ঘোষণা মিয়ানমারের

দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল এর আগে জানিয়েছিলেন, প্রত্যাবর্তনের পর যদি কোনো শরণার্থীর জীবন বা নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে কিংবা তারা নির্যাতনের শিকার হন, তবে তাদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হবে না।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত শরণার্থীদের সঠিক তথ্যভান্ডারের আওতায় আনতে সরকার ডকুমেন্ট পেন্ডাফতারান পেলারিয়ান বা ডিপিপি (DPP) নামক নতুন শরণার্থী নিবন্ধন কর্মসূচি চালু করেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে প্রধানত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ৪ হাজার ৮ জন নাগরিককে এই নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে। ইমিগ্রেশন বিভাগ ও রয়্যাল মালয়েশিয়ান পুলিশ যৌথভাবে আটক কেন্দ্রগুলোতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয়, নাগরিকত্ব এবং নিরাপত্তা পটভূমি যাচাইয়ের কাজ করছে। গত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশটির অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোতে ১০ হাজার ৩৮৮ জন মিয়ানমারের নাগরিক আটক ছিলেন, যাদের সবাই শরণার্থী নন। যাচাই-বাছাই শেষে শর্ত পূরণকারী নিবন্ধিত ব্যক্তিদের বিশেষ ডিপিপি কার্ড প্রদান করা হবে, যার মাধ্যমে তারা নির্দিষ্ট সরকারি শর্ত সাপেক্ষে সাময়িকভাবে দেশটিতে অবস্থানের সুযোগ পাবেন।

মালয়েশিয়া ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। 

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (UNHCR) তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে দুই লাখ ১৫ হাজারের বেশি নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন, যার প্রায় ৯৫ শতাংশই মিয়ানমার থেকে আগত যাদের মধ্যে রোহিঙ্গা ছাড়াও চিন, কারেন ও মন জনগোষ্ঠীর মানুষও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও ইউএনএইচসিআর-এর পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে এখনও নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের মতো অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি, কারণ দেশটির সামরিক বাহিনী যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ অব্যাহত রেখেছে। তা সত্ত্বেও মালয়েশিয়া সরকার দেশটির দীর্ঘদিনের অভিবাসন ও জনমিতি সংকট মোকাবিলায় মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনা জোরদার রাখার পাশাপাশি এই দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়