হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, প্রাণহানি ৯৬০
ফাইল ছবি
দেশে অব্যাহত রয়েছে হামের প্রাদুর্ভাব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও পাঁচজন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ১৭০ জনের শরীরে হাম কিংবা এর উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাবে দেশে মোট আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৪ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সারা দেশে সুনির্দিষ্টভাবে ১৮ হাজার ৭৯৬ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম যেকোনো বয়সের মানুষেরই হতে পারে, তবে মূলত শিশুরাই এতে সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। চলমান এই প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তদের একটি বড় অংশই খুদে শিশু।
আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩১
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গজনিত কারণে সারা দেশে মোট ৯৬০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। মোট মৃত্যুর এই পরিসংখ্যানের মধ্যে ৮৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে এবং সুনির্দিষ্টভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৯ জন।
বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ভৌগোলিক অবস্থান ও ঘনবসতির কারণে ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এখানে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৮৫ জন। এরপরই রয়েছে সিলেট বিভাগ, যেখানে মৃতের সংখ্যা ১৪৮ জন।
অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহী বিভাগে ৯২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৪ জন, বরিশাল বিভাগে ৫১ জন, খুলনা বিভাগে ৩৩ জন, রংপুর বিভাগে ১৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের নিয়মিত বুলেটিনে মৃতদের সুনির্দিষ্ট বয়সভিত্তিক কোনো আলাদা পরিসংখ্যান প্রকাশ না করলেও রোগতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে আসছেন যে, হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগ মূলত শিশুদের জন্যই মারাত্মক প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বা যারা সময়মতো টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে গেছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি সর্বাধিক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিকাদানের ব্যবধান ও অনাক্রম্যতার ঘাটতির কারণে এই প্রাদুর্ভাব দীর্ঘায়িত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বাদপড়া শিশুদের টিকাদানের আওতায় আনতে পরবর্তীতে আরও কার্যকর ও বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








