বিনোদন ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৪৩, ২৮ আগস্ট ২০২৬

রোমান্টিক নাটক বন্ধের নোটিশে শিল্পীদের প্রতিবাদ

রোমান্টিক নাটক বন্ধের নোটিশে শিল্পীদের প্রতিবাদ

ছবি: সংগৃহীত

দেশের টেলিভিশন ও অনলাইন মাধ্যমের প্রযোজক, নির্দেশক, শিল্পী এবং কলাকুশলীদের সম্মিলিত সংগঠনসমূহ রোমান্টিক ঘরানার নাটক ও সিনেমা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ জারির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, গভীর উদ্বেগ ও জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক যৌথ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে টেলিভিশন শিল্প সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠনের পক্ষ থেকে এই প্রতিবাদলিপি প্রকাশ করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে এই আইনি নোটিশটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা এবং হাস্যরাসের সৃষ্টি হয়েছে, যা পরবর্তীতে তীব্র প্রতিবাদী রূপ নেয়।

এর আগে যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ, সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সৃজনশীল মেধার বিকাশের যুক্তি দেখিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কেবল প্রেম ও রোমান্সনির্ভর নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধের দাবি জানিয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠান। 

নোটিশে দাবি করা হয়েছিল যে, এ ধরনের কনটেন্টের কারণে যুবসমাজ পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার থেকে বিচ্যুত হচ্ছে এবং পরকীয়া বা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মতো বিষয়গুলোকে মহিমান্বিত করা হচ্ছে। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিট করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

তবে এই উদ্যোগকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অবাস্তব বলে অভিহিত করে টেলিভিশন ও অডিওভিজ্যুয়াল শিল্পের শীর্ষস্থানীয় সংগঠনগুলোর নেতারা জানান, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, বিনোদন জগত এবং সৃজনশীল অর্থনীতির প্রসারে এই শিল্প দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। নাটক, সিনেমা ও যেকোনো বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান তৈরির ক্ষেত্রে সৃজনশীল স্বাধীনতা, শিল্পীর মতপ্রকাশের অধিকারের পাশাপাশি প্রচলিত আইন ও নীতিমালা মেনে চলা জরুরি হলেও, আস্ত একটি সৃজনশীল ধারার নির্মাণ সামগ্রিকভাবে বন্ধ করার দাবি কোনোভাবেই শিল্প বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। 

আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার সাজে চমক, প্রশংসায় ভাসছেন অভিনেত্রী

নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন যে, কোনো নির্দিষ্ট কনটেন্ট বা বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো ধরনের আপত্তি বা অভিযোগ থাকতেই পারে, যার প্রতিকারের জন্য প্রচলিত আইন, বিধিমালা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা কাঠামো বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া বা নিয়মতান্ত্রিক পন্থা বাদ দিয়ে একটি পুরো শিল্পধারার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির অপচেষ্টা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার কলাকুশলী, শ্রমিক ও পেশাজীবীর কর্মসংস্থান এবং সৃজনশীল কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দেবে।অবশ্য সামগ্রিক এই প্রতিবাদের পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন বিনোদন অঙ্গনের শীর্ষনেতারা। 

তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, মানসম্মত ও সুস্থ বিনোদন উপহার দিতে শিল্পীরা সবসময়ই সচেষ্ট। টেলিভিশন শিল্পের এই সৃজনশীল স্বাধীনতা, শিল্পী ও কুশলীদের কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা এবং সামগ্রিক সংস্কৃতি অঙ্গনের স্বাভাবিক গতিশীলতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে অবিলম্বে কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।  

যৌথ এই প্রতিবাদ লিপিতে স্বাক্ষর করেছেন ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল হাসান, অভিনয় শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সভাপতি শিহাব শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন সুমন। এ ছাড়া আরও স্বাক্ষর করেছেন ক্যামেরাম্যান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সাধারণ সম্পাদক সাহিল রনি, অডিও-ভিজ্যুয়াল টেকনিক্যাল ওনার্স এসোসিয়েশন-এর সভাপতি সাদেক সিদ্দিকী, টেলিভিশন এসিস্টেন্ট ডিরেক্টরস অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশ-এর সাধারণ সম্পাদক রাজ্জাক রাজ এবং বাংলাদেশ মেকআপ আর্টিস্ট এসোসিয়েশন-এর সভাপতি মাহবুব রহমান মানিক। দেশের প্রথম সারির বিনোদন মাধ্যম ও সংস্কৃতিকর্মীরা মনে করছেন, এ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও আইনি নোটিশ স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং মুক্তচর্চার অন্তরায়। 

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়