আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:১২, ৮ জুন ২০২৬

অভিযান স্থগিতের ঘোষণা তেহরানের

অভিযান স্থগিতের ঘোষণা তেহরানের

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার পারদ চড়ার পর অবশেষে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। তবে এই ঘোষণার পাশাপাশি তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তেহরান জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী যদি লেবানন কিংবা ইরানে নতুন করে কোনো ধরনের আগ্রাসন বা হামলা চালায়, তবে তেল আবিবকে আগের চেয়েও আরও অনেক বেশি কঠোর, শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক জবাব দেওয়া হবে। 

সোমবার (০৮ জুন) ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের বরাত দিয়ে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী স্পষ্ট করে বলেছে, সবশেষ অভিযান থেকে ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী এবং তাদের আন্তর্জাতিক সমর্থকদের অবশ্যই শিক্ষা নিতে হবে; অন্যথায় যেকোনো শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের চড়া মূল্য চকাতে হবে।

ইরানের পক্ষ থেকে সামরিক অভিযান স্থগিতের এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার ঠিক কিছু সময় আগে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দুই পক্ষকেই অবিলম্বে সব ধরনের হামলা ও সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করে যুদ্ধবিরতিতে আসার আহ্বান জানান। 

নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া একটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ও ইসরায়েল এখন একটি ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দিকে এগোচ্ছে।’ 

একই সাথে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে লিখেন, যদি নতুন করে কারও বোকামি বা উস্কানি বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তবে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চূড়ান্ত আলোচনা বেশ ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে চলছে।

এর আগে গত রবিবার রাতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে আকস্মিক ও তীব্র পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি থমথমে হয়ে ওঠে। এই সংঘাতের জেরে গত এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি চরম হুমকির মুখে পড়েছিল। 

আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরান-ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলা

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমাগত বিমান হামলাকে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের শামিল বলে অভিযোগ তোলে তেহরান। এর প্রতিক্রিয়ায় সোমবার উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে একঝাঁক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। 

হামলার পরপরই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঙ্কার দিয়ে জানিয়েছিল, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মূলত সপ্তাহব্যাপী টানা ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের একটি সূচনা মাত্র।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও কালক্ষেপণ না করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। সোমবার ইরানের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর এই অভিযানের পর দেশটির রাজধানী তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ শহর তাবরিজ ও ইস্পাহানে একাধিক শক্তিশালী ও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। 

এই ঘটনার পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলের একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তার দেশ ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকদিন ধরে একনাগাড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর মতো সমস্ত প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা আগে থেকেই সম্পন্ন করে রেখেছিল। তবে ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণার পর ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা পরবর্তী পদক্ষেপের কথা জানানো হয়নি।

এদিকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে সফল ও জোরালো সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য ইরান এবং একই সাথে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। 

এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হামাস নেতৃত্ব জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলি শক্তির লাগামহীন ও অন্যায় আগ্রাসনই মূলত বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়ার একমাত্র প্রধান কারণ। 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও লেবানন সীমান্তের অস্থিরতা ফ্রন্টলাইনকে যেকোনো মুহূর্তে আবারও যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়