বাহরাইনে অ্যামাজন ডাটা সেন্টারে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত
ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সামরিক আগ্রাসনের পর ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্ট 'অ্যামাজন'-এর কৌশলগত ডেটা সেন্টারগুলোতে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
তেহরানের দাবি, এসব হামলা ইসরাইলের ভূখণ্ডের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই চালানো হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান একাধিক দেশের সঙ্গে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
এই উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে নতুন এক হামলার তথ্য প্রকাশ করেছে ইরান।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফারস জানিয়েছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বাহরাইনে অবস্থিত অ্যামাজনের একটি ডাটা সেন্টার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দাবি, শত্রুপক্ষের সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে- এমন স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করতেই ওই স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
আরও পড়ুন: তেলের দামের চেয়ে সামরিক অভিযানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ: ট্রাম্প
ফারস নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই হামলা একক কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি অঞ্চলে আইআরজিসির সাম্প্রতিক ধারাবাহিক অভিযানের অংশ। এর আগে দুবাইয়ে অবস্থিত অ্যামাজনের একটি ডাটা সেন্টারসহ আরও কয়েকটি কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একই ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস) গত সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের দুটি স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। পাশাপাশি বাহরাইনে তাদের একটি স্থাপনার খুব কাছাকাছি ড্রোন হামলার কারণে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলার ফলে কয়েকটি স্থাপনায় কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে এবং অবকাঠামোগত বিদ্যুৎ সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটেছে। কিছু ক্ষেত্রে আগুন নেভানোর কাজ করতে গিয়ে অতিরিক্ত পানি ব্যবহারের কারণে আরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে প্রযুক্তি খাতেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এনভিডিয়া তাদের দুবাই অফিস সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে অ্যামাজন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাদের সব করপোরেট অফিস বন্ধ রেখেছে।
অন্যদিকে গত সপ্তাহে গুগলের ক্লাউড বিভাগ সেখানে একটি সেলস কিক-অফ আয়োজন করায় কোম্পানিটির কয়েক ডজন কর্মী এখনো দুবাইয়ে আটকে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








