News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:৫০, ৫ মার্চ ২০২৬

এবার ইকুয়েডরে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু

এবার ইকুয়েডরে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই লাতিন আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মূলত মাদক পাচার নির্মূল এবং ইকুয়েডরের অভ্যন্তরে সক্রিয় ‘নির্ধারিত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর’ নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতেই ওয়াশিংটন এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। 

পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত থেকেই এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে যা দক্ষিণ আমেরিকার ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিস্তৃত মাদক নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়াই এই পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্য বলে ওয়াশিংটনের দাবি।

বুধবার (০৪ মার্চ) মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই যৌথ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

মার্কিন সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, ইকুয়েডরের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এক বিবৃতিতে সাউথকম উল্লেখ করেছে, দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলজুড়ে সহিংসতা ও দুর্নীতি ছড়িয়ে দেওয়া ‘নার্কো-সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে যৌথভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদকসন্ত্রাস বন্ধে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে একযোগে লড়াই অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সূত্র বলছে, ইকুয়েডরের সেনাবাহিনীর নেতৃত্বেই মূল অভিযান পরিচালিত হচ্ছে; তবে রণকৌশল, গোয়েন্দা সহায়তা এবং অস্ত্রসহ বিভিন্ন সামরিক সহযোগিতা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। 

মার্কিন সাদার্ন কমান্ডার জেনারেল ফ্রান্সিস এল ডোনোভান জানিয়েছেন, ইকুয়েডর বহুদিন ধরেই মাদকসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন এই পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বাত্মক সহায়তা দেবে। মঙ্গলবার রাত থেকেই জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে বলে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

আরও পড়ুন: ভারত মহাসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে ইকুয়েডর আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীদের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের দুই বৃহৎ কোকেন উৎপাদক দেশ কলম্বিয়া ও পেরু-এর মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে বিপুল পরিমাণ মাদক এই দেশের মধ্য দিয়ে পাচার হয়। প্রায় ৭০ শতাংশ কোকেন রুট ইকুয়েডর হয়ে অতিক্রম করে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। যদিও দেশটিতে সরাসরি মাদক উৎপাদন হয় না, তবুও পাচার রুট নিয়ন্ত্রণ, গুদামজাতকরণ এবং পরিবহন নেটওয়ার্ক পরিচালনায় স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দেশটি লাতিন আমেরিকার অন্যতম সহিংস অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

২০২৩ সালে ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা নতুন মাত্রা পায়। যদিও গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি নিষিদ্ধের পক্ষে রায় আসে, তবুও বিশেষ চুক্তির আওতায় মার্কিন উপস্থিতি বজায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে মান্তা বন্দর এলাকায় নজরদারি কার্যক্রম জোরদারের তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে ড্রোন ও নজরদারি বিমানের মাধ্যমে মাদক পাচারকারীদের গতিবিধি শনাক্ত করার কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় মাদকসন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে সামরিক পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-কে আটক করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। 

বিশ্লেষকদের মতে, ইকুয়েডরে নতুন এই অভিযান কেবল অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সহায়তা নয়; বরং দক্ষিণ আমেরিকায় মার্কিন প্রভাব পুনর্বিন্যাসের কৌশলগত অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

তবে সরাসরি মার্কিন সম্পৃক্ততার ফলে স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। একদিকে মাদক-সহিংসতা থেকে মুক্তির আশায় সাধারণ মানুষ এই যৌথ অভিযানকে স্বাগত জানাচ্ছেন, অন্যদিকে বিদেশি সামরিক উপস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করছেন অনেকেই। প্রেসিডেন্ট নোবোয়া স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ‘নার্কো-সন্ত্রাসবাদ’ দমনের স্বার্থেই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।

এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইকুয়েডরের এই সমন্বিত সামরিক পদক্ষেপ লাতিন আমেরিকার মাদক রুট ও সশস্ত্র নেটওয়ার্কের মানচিত্র কতটা বদলে দিতে সক্ষম হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়