News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:৫৭, ৬ মার্চ ২০২৬

নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলে হামলা: ইরান

নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলে হামলা: ইরান

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের জবাবে এবার ‘নতুন প্রজন্মের’ শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করেছে ইরান। ইসরায়েলের প্রধান ও সবচেয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়নে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। 

যুদ্ধের সপ্তম দিনে শুক্রবার (০৬ মার্চ) ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়নসহ হাইফা ও তেল আবিবে বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে কুয়েত উপকূলে একটি মার্কিন তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী।

দেশটির ইসলামি বিপ্লব গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই হামলায় তারা ‘নতুন প্রজন্মের’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর বেন গুরিয়নের পাশাপাশি হাইফা ও তেল আবিবেও একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে আইআরজিসি দাবি করেছে। সংগঠনটি আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

এর আগে শুক্রবার সকালে তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা করার সময় এসব বিস্ফোরণ ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একই সময় ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, তাদের নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র শুধু ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাই নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

আরও পড়ুন: বাহরাইনে অ্যামাজন ডাটা সেন্টারে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের

এদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছে, তারা কুয়েত উপকূলে একটি ‘মার্কিন মালিকানাধীন’ তেলবাহী ট্যাঙ্কারেও হামলা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় রেডিও খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, জাহাজটিতে আঘাত হানা হয়েছে এবং সেটি বর্তমানে আগুনে জ্বলছে। যুদ্ধকালীন সময়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড হিসেবে এই হেডকোয়ার্টার্স দায়িত্ব পালন করে।

সংঘাতের পটভূমিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সেই হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ইরানের দাবি, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত দেশটিতে এক হাজার ২৩০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ছয়জন সৈন্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। চলমান সংঘাতে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।

এদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর বিশেষ শাখা আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাঈনি জানিয়েছেন, ইরান একটি দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। 

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত চলমান অভিযানে ইরানের প্রকৃত সামরিক সক্ষমতার কেবল একটি সীমিত অংশ ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রেস টিভিকে দেওয়া বক্তব্যে নাঈনি বলেন, সামনে এমন নতুন প্রজন্মের কৌশলগত অস্ত্র ব্যবহার করা হবে যা এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে দেখা যায়নি। তার মতে, ভবিষ্যৎ সামরিক অভিযানের প্রতিটি ধাপে প্রতিপক্ষকে ‘কঠিন ও বেদনাদায়ক আঘাত’ মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের অনেক সামরিক উদ্ভাবন ও অস্ত্র এখনো বড় পরিসরে ব্যবহার করা হয়নি এবং প্রয়োজনে স্থল ও সমুদ্র—উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নাঈনির ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় বর্তমানে ইরান অনেক বেশি প্রস্তুত।

এদিকে চলমান সংঘাত শুক্রবার (০৬ মার্চ) সপ্তম দিনে গড়িয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় তীব্র বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছে ইরানও। হামলা-পাল্টা হামলার এই পরিস্থিতিতে হতাহতের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত বাড়ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র: আল–জাজিরা, প্রেস টিভি

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়