News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৪৬, ৬ মার্চ ২০২৬

ইরানি নাবিকদের নিরাপদ আশ্রয় দিলো শ্রীলঙ্কা

ইরানি নাবিকদের নিরাপদ আশ্রয় দিলো শ্রীলঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

ভারত মহাসাগরে মার্কিন সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডো হামলায় ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ ধ্বংস হওয়ার পর ওই অঞ্চলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আরেকটি ইরানি জাহাজ ‘আইআরআইএস বুশেহর’-এর ২০৮ জন ক্রুকে উদ্ধার করেছে শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী। 
মানবিক কারণে এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় জীবন রক্ষার তাগিদে এই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে।

শুক্রবার (০৬ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয় নিশ্চিত করেন তিনি।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের আইআরআইএস বুশেহর নামের যুদ্ধজাহাজ কলম্বো বন্দরের কাছে দেশের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে নোঙর করা রয়েছে। জাহাজটি শ্রীলঙ্কার জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল এবং তৎপরতার সঙ্গে ২০৮ জন নাবিককে নিরাপদে তীরে আনা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে বলেন, শ্রীলঙ্কা ও ইরানি দূতাবাসের মধ্যে আলোচনা শেষে সংশ্লিষ্ট জাহাজের অধিনায়ক ক্রুদের উদ্ধার করার সিদ্ধান্ত নেন। আমাদের নৌবাহিনীর জাহাজগুলো সেই অনুযায়ী উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত হয়েছে। আমাদের কাছে তথ্য আছে, ২০৮ জনকে তীরে আনার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫৩ জন কর্মকর্তা, ৮৪ জন ক্যাডেট, ৪৮ জন সিনিয়র নাবিক এবং ২৩ জন নাবিক রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, এখন ওই ২০৮ জনকে আমাদের নৌযানে নিয়ে কলম্বো বন্দরে আনা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে ক্রু এবং আমাদের নাবিকদের ত্রিনকমালি বন্দরের এলাকায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও, ইরানি নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ ৯ ও ১৩ মার্চ শ্রীলঙ্কা সফরের অনুমতির জন্য আবেদন করেছে। মানবিক কারণে জাহাজের দু’জন কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যেই দেশে আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানি জাহাজে সাবমেরিন হামলা, নিখোঁজ শতাধিক

প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে স্পষ্ট করেন, চলমান বা ভবিষ্যতের কোনো আন্তর্জাতিক সংঘাতে শ্রীলঙ্কার ভূখণ্ড, সমুদ্রসীমা বা আকাশসীমা ব্যবহার করা হবে না। তিনি দেশের নিরপেক্ষ অবস্থান এবং মানবিক দায়িত্ববোধকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে জোর দেন।

এর আগে ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার উপকূলে ইরানের আইআরআইএস দেনা জাহাজকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন থেকে টর্পেডো হামলা চালিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। এতে অন্তত ৮৭ জন নাবিক নিহত এবং বহু আহত হন। জাহাজ থেকে সাহায্যের সংকেত পাওয়ার পর শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহত ৩২ জনকে গালের জাতীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ জানান, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী জাহাজে প্রায় ১৮০ জন আরোহী ছিলেন এবং পরে নিখোঁজ ৮৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদেহগুলো গালের জাতীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শ্রীলঙ্কাকে ধন্যবাদ জানান, কারণ তাদের নৌবাহিনী ডুবে যাওয়া জাহাজের নাবিকদের উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তেহরান আইনি জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে।

উল্লেখ্য, ইরানি জাহাজ আইআরআইএস বুশেহর পশ্চিম ভারত মহাসাগরে ভারতের বার্ষিক নৌ মহড়া ‘মিলান ২০২৬’-এ অংশগ্রহণ শেষে ফেরার পথে শ্রীলঙ্কার কাছে মানবিক আশ্রয় চেয়েছিল। শ্রীলঙ্কা নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলসীমায় মানবিক দৃষ্টিকোণ বজায় রাখার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন, প্রতিটি জীবনই মূল্যবান। আমরা নাবিকদের জীবন রক্ষা এবং মানবিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রাখতে এই পদক্ষেপ নিয়েছি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বানও জানান তিনি।

শ্রীলঙ্কা বর্তমান সংঘাতে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে। দেশটির প্রধান রপ্তানি পণ্য চা এবং ইরান গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার, যখন যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ রপ্তানি বাজার। এই অবস্থার মধ্যে শ্রীলঙ্কার মানবিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মনোযোগ কাড়ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়