আসক্তির অভিযোগে করা মামলা থেকে রেহাই পেল মেটা
ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের আসক্ত করে তোলার অভিযোগে করা একটি বহুল আলোচিত মামলা থেকে শেষ পর্যন্ত রেহাই পেয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা। কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ ছাড়াই বাদী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস সুপিরিয়র আদালতে মামলার বিচার শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে বিচার শুরুর আগেই মামলা প্রত্যাহার করায় সেই প্রক্রিয়া আর এগোচ্ছে না।
এর আগে একই মামলায় টিকটক, ইউটিউব ও স্ন্যাপ বাদীপক্ষের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছায়। ফলে মেটাই ছিল মামলার একমাত্র অবশিষ্ট বিবাদী।
মামলাটি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এক কিশোর, যার পরিচয় আদালতের নথিতে গোপন রাখা হয়েছে। তার অভিযোগ ছিল, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখতে ইচ্ছাকৃতভাবে আসক্তিকর নকশা (অ্যাডিকটিভ ডিজাইন) ব্যবহার করেছে।
এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিরুদ্ধে দায়ের করা হাজারো মামলার একটি। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের কিশোর-কিশোরী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আইন কর্মকর্তারাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সচেতনভাবেই ব্যবহারকারীদের আসক্তির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ মামলার রায় হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারত। বিশেষ করে অন্তহীন কনটেন্ট স্ক্রল, ঘন ঘন নোটিফিকেশন পাঠানো এবং ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় সক্রিয় রাখার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে নতুন আইনি নজির তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
তবে চলতি বছরের শুরুতে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি মামলায় মেটা হেরে যায়। ওই মামলায় আদালত রায় দেন, প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি শিশুদের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য মেটাকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়।
এর আগে মার্চে লস অ্যাঞ্জেলেসের আরেকটি মামলায় মেটা ও গুগলের বিরুদ্ধে রায় দেন জুরিরা। সে মামলায় বাদীপক্ষকে ৬০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বর্তমান মামলায় মেটার দাবি ছিল, বাদী প্রতিদিন গড়ে খুব অল্প সময় ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করতেন। এছাড়া আইনজীবীর সহায়তা নেওয়ার পর তার অধিকাংশ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল বলেও দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি।
আরও পড়ুন: এআই দিয়ে তৈরি নিম্নমানের ভিডিওতে আয় সীমিত করছে ইউটিউব
মামলা প্রত্যাহারের পর এক বিবৃতিতে মেটা জানায়, এই সিদ্ধান্ত ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই অব্যাহত রাখবে প্রতিষ্ঠানটি। তবে বাদীপক্ষ কেন মামলা প্রত্যাহার করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








