নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:০৬, ৩১ জুলাই ২০২৬

২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

ফাইল ছবি

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৫ জনের শরীরে হাম অথবা হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। তবে এই ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাবের পর এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট ৮৩৭ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আক্রান্তের সংখ্যা, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর ধারাবাহিকতা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে প্রকাশিত নিয়মিত হাম পরিস্থিতিবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯০০ জনকে সন্দেহজনক হামরোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং পরীক্ষার মাধ্যমে আরও ১৮৫ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এই দুই শ্রেণির রোগী মিলিয়ে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ২৮ হাজার ৩১০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে ১৬ হাজার ৫৯ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৯৮৭ জন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৮৫৯ জন।

মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪১ জনে। অন্যদিকে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৯৬ জন। সব মিলিয়ে চলমান প্রাদুর্ভাবে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩৭ জনে। যদিও সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান পরিস্থিতিতে আক্রান্তের অধিকাংশই শিশু। বিশেষ করে যেসব শিশু এখনো পূর্ণমাত্রার টিকা গ্রহণ করেনি বা টিকাদান কর্মসূচির বাইরে রয়েছে, তাদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে। 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে। ফলে একটি এলাকায় সংক্রমণ শুরু হলে দ্রুত বিস্তারের আশঙ্কা থাকে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া, পর্যাপ্ত পুষ্টি ও তরল খাবার নিশ্চিত করা এবং অন্য শিশুদের সংক্রমণ থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। তারা অভিভাবকদের প্রতি শিশুদের জ্বর, সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় হাম পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, রোগ শনাক্তে নজরদারি বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকাদান সম্পন্ন করার পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসা নিতে বিলম্ব না করার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়