News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:১৩, ৩১ মার্চ ২০২৬

প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের

প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের

ফাইল ছবি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় এসেছে। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 

প্রস্তাব অনুযায়ী, সংগীত শিক্ষকদের নির্বাচন বা বাছাই প্রক্রিয়ার দায়িত্ব পালন করবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, তবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক খরচ বহন করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের এই নতুন উদ্যোগের কথা জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক বিকাশের লক্ষ্যে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ আগস্ট ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’-এর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। ওই বিধিমালায় সাধারণ বিষয়ের পাশাপাশি সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়েও বিশেষায়িত শিক্ষক নিয়োগের বিধান রাখা হয়। এটি দীর্ঘদিনের একটি দাবি হিসেবে শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের কাছে সমাদৃত হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ‘অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার’

তবে ২০২৫ সালের সেই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই সংগীত শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের নেতারা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তারা সংগীত শিক্ষকের পরিবর্তে ধর্ম শিক্ষক নিয়োগের জোর দাবি তুলে দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা, সেমিনার ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এমনকি এই সিদ্ধান্ত বাতিল না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল।

উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এবং বিভিন্ন পক্ষের দাবির মুখে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনে। গত নভেম্বর মাসে একটি সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করা হয়, যেখানে কেবল প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ বহাল রাখা হয় এবং সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়া হয়।

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে সংগীত শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই মন্ত্রণালয় এই নতুন প্রস্তাবনা তৈরি করেছে। প্রস্তাবনায় দুটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কাজের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যেখানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় দক্ষ শিক্ষক নির্বাচনে কারিগরি সহায়তা দেবে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব পালন করবে। মূলত স্থগিত হয়ে যাওয়া এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে নতুন আঙ্গিকে সচল করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়