নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:৪৬, ১৫ মে ২০২৬

মাদরাসা ছাত্রকে গলা টিপে আছাড়, শিক্ষক গ্রেফতার

মাদরাসা ছাত্রকে গলা টিপে আছাড়, শিক্ষক গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র কুরআন শিক্ষার পবিত্র আঙিনায় স্নেহের পরিবর্তে এক ৯ বছরের কোমলমতি শিশুর ওপর চললো পৈশাচিক তান্ডব। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের হাফেজিয়া মাদরাসার এক শিশুকে গলা টিপে ধরে শূন্যে তুলে আছাড় দেওয়ার লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই ভয়ংকর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হৃদয়বিদারক ওই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সাকির আলীকে (২৩) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৩ মে) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার সদর মডেল থানাধীন পিটিআই আল হিদায়াত হিফজুল কুরআন মডেল মাদরাসায় ঘটনাটি ঘটেছে। নির্যাতনের শিকার শিশু নূর ই সাফী (৯) মাদরাসাটির নাজেরা বিভাগের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষক সাকির আলী (২৩) দীর্ঘদিন ধরেই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শিশুটিকে গালিগালাজ, মারধর এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার তাকে সতর্ক ও অনুরোধ করলেও তার আচরণে পরিবর্তন আসেনি। বরং সময়ের সঙ্গে শিশুটির ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।

ঘটনার দিন সকালে অন্য শিক্ষার্থীদের সামনেই শিশুটির ওপর চরম নির্যাতন চালানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শিক্ষক সাকির আলী প্রথমে একটি কাঠের স্কেল বা লাঠি দিয়ে নূর ই সাফীকে এলোপাথাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি শিশুটির গলা চেপে ধরে শূন্যে তুলে সজোরে মেঝেতে আছাড় দেন। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও শিশুটি কান্নাকাটি করছিল, কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষককে থামতে দেখা যায়নি। আতঙ্কে আশপাশে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরাও এগিয়ে আসতে পারেনি।

আরও পড়ুন: মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা, অভিযুক্ত সেই শিক্ষক গ্রেফতার

পরিবার সূত্রে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার শিশুটি পরে বাসায় গিয়ে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর স্বজনরা মাদরাসায় গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখেন এবং ঘটনার ভয়াবহতা নিশ্চিত হন। পরে শিশুটির মামা মোখলেসুর রহমান বাদী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাতেই অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে।

গ্রেফতার হওয়া সাকির আলী রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার দুধাই নন্দীপুকুর গ্রামের সেরাজুল ইসলামের ছেলে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং শিশুটির পরিবারের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত সাকির আলীর বিরুদ্ধে এর আগেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কঠোর আচরণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। তবে সেগুলো প্রকাশ্যে না আসায় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এবার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শিশু অধিকারকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আড়ালে শিশুদের ওপর এমন সহিংসতা শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধেরও চরম অবক্ষয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতন রোধে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়