১৫ আগস্ট ঘিরে গোপালগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
ফাইল ছবি
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসকে ঘিরে গোপালগঞ্জে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজিরবিহীন ও ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন।
গোপালগঞ্জ শহর থেকে শুরু করে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার প্রতিটি স্পর্শকাতর পয়েন্ট নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ এবং এর আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের তিনটি মূল প্রবেশপথসহ পুরো এলাকায় পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তাবলয় তৈরি করেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সমাধি কমপ্লেক্সের আশপাশে সাধারণের চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং কাউকে সহজে ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড, কলেজ রোড, চৌরঙ্গী মোড়সহ টুঙ্গিপাড়ার ঝুঁকিপূর্ণ ও জনসমাগমপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আবার বন্ধ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট
পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, সরকারি ও আধাসরকারি স্থাপনা এবং জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে জেলা ও দায়রা জজ সাহেবের বাসভবন সংলগ্ন সড়কে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে সেখানে পুলিশ পাহারা জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে সন্দেহভাজন গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।
এর আগে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান ও পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহর নেতৃত্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি সুসজ্জিত যৌথ টহল বের হয়। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের সমন্বয়ে গঠিত এই টহল টিমটি জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে টুঙ্গিপাড়ায় সমাধিসৌধ এলাকা ঘুরে পুনরায় জেলা শহরে ফিরে আসে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, গোপালগঞ্জ একটি শান্ত ও সংবেদনশীল জেলা। গত ১ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। আগামী ১৫ আগস্টেও যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে আমাদের পুরো টিম সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে।
জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান জানান, জাতীয় শোক দিবস ও অন্যান্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোপালগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা ও মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবং রুটিন কাজের অংশ হিসেবেই এই বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে, যা সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। প্রশাসনের এই কঠোর ও সতর্ক অবস্থানের ফলে পুরো জেলাজুড়ে থমথমে ও শৃঙ্খলিত পরিবেশ বজায় রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








