News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:০৪, ১৫ মার্চ ২০২৬

‘ঈদের ছুটিতে স্বর্ণালংকারসহ গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী রাখা যাবে থানায়’

‘ঈদের ছুটিতে স্বর্ণালংকারসহ গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী রাখা যাবে থানায়’

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক ও বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। 

রবিবার (১৫ মার্চ) সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। 

ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত সুগম করা এবং ফাঁকা রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ একগুচ্ছ নির্দেশনা ও সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানান, যারা ঈদ উপলক্ষ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন এবং তাদের বাসায় কেউ থাকবেন না, তারা চাইলে থানায় তাদের স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস নিরাপদে রাখতে পারবেন।

কমিশনার সরওয়ার জানান, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল, একটি লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশন এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট কালোবাজারি ও যাত্রী হয়রানি রোধে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে নিষেধাজ্ঞা জারি করলো ডিএমপি

তিনি আরও বলেন, ঈদের সময় রাজধানী সাধারণত ফাঁকা থাকে। এই সুযোগে অপরাধীদের কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালানো রোধ করতে টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হবে। আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা ও কূটনৈতিক এলাকায় থাকবে বিশেষ নজরদারি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ডগ স্কোয়াড, সোয়াট টিম, বোম ডিসপোজাল ইউনিট এবং মাউন্টেড পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

ডিএমপির কমিশনার নগরবাসীকে পরামর্শ দেন, বাসা ছাড়ার আগে দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ করা, সিসি ক্যামেরা সচল রাখা এবং আশপাশে পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করা। যাত্রাপথে অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার গ্রহণ না করা এবং নগদ অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিজের হেফাজতে রাখার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তির গতিবিধি লক্ষ্য করলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

ঈদের আগে ও পরে তিনদিন বিশেষ পণ্যবাহী যান ছাড়া ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ থাকবে, যাতে যাত্রীদের যাতায়াতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। রাজধানীর প্রবেশ ও বহির্গমন সড়কগুলোতে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি এবং কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্লক রেইড ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ বিপণিবিতান, শপিং মল এবং জনাকীর্ণ এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় এক হাজার অতিরিক্ত পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।

ঈদে নগরবাসীর যাতায়াত সুবিধার্থে ঢাকা মহানগরের চারটি বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনাল ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের সহায়তায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ট্রাফিক ব্যাহত করা বা অনিয়মজনিত ঝুঁকি রোধ করা যায়।

কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, ডিএমপি নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমিত সম্পদ এবং জনবল সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাধারণ জনগণকে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। ফাঁকা ঢাকা শহরে রেসিং বা ওভারস্পিডিং রোধ করতে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, বনানী থেকে আব্দুল্লাহপুর, গুলশান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।

ডিএমপির এই বিশেষ প্রস্তুতি নাগরিকদের জন্য নিশ্চয়তা দিচ্ছে যে, তারা নির্বিঘ্নে এবং নিরাপদে ঈদ উদযাপন করতে পারবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়