রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল
ফাইল ছবি
আসন্ন দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পক্ষ থেকে দলটির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দলের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক ও সংসদীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক চলাকালীন গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আনুষ্ঠানিকভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতার কথা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সাংবিধানিক ও দলীয় নিয়ম মেনে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং দলীয় পদসহ সকল দলীয় দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানান রিজভী।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী আজই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। প্রশাসনিক জটিলতা বা ত্রুটি এড়াতে একই প্রার্থীর নামে দুটি আলাদা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিএনপির অন্যতম প্রধান কান্ডারি হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন।
আরও পড়ুন: দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল
বিশেষ করে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ নির্বাসনের পুরো সময়টায় তিনি অত্যন্ত সাহসিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে দলের নেতৃত্ব টিকিয়ে রেখেছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নানামুখী নির্যাতনের মুখে তিনি বিভিন্ন সময়ে ছয়বার কারাবরণের শিকার হন। ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মহাসচিব নিযুক্ত হন এবং আপসহীন নেতা হিসেবে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেন।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর থেকেই জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারিত রয়েছে। এরপর আগামী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে এবং ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সুযোগ থাকবে। যদি একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকে, তবে আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদকক্ষে বিশেষ অধিবেশনের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই ভোটগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে সংসদের বিশেষ বৈঠকও আহ্বান করা হয়েছে।
এদিকে, সংসদের বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে সিইসির কাছে কর্নেল অলির মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ ও দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয়লাভ একরকম নিশ্চিত বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








